খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
পাকিস্তানের নিষিদ্ধঘোষিত তেহরিক–ই–তালেবানের (টিটিপি) সঙ্গে সংঘর্ষে মাদারীপুরের ২২ বছর বয়সী ফয়সাল হোসেন নিহত হয়েছেন। তার পরিবার জানিয়েছেন, তারা জানত তিনি দুবাইপ্রবাসী। তারা কখনোই ভাবেননি যে ফয়সাল পাকিস্তানে যোগ দিতে পারেন। মৃত্যুর খবর পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে ফয়সালের গ্রামের বাড়িতে গভীর শোক ও মাতমের ছায়া নেমেছে।
ফয়সাল মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ছোট দুধখালী এলাকার আবদুল আউয়াল মোড়লের ছেলে। তার পরিবার ঢাকার জগন্নাথপুর এলাকায় বসবাস করে। বাবা আবদুল আউয়াল পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান, বড় ভাই আরমান মোড়ল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। ফয়সাল ঢাকার কালাচাঁদপুরে একটি স্কুলে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। দেশে থাকাকালীন সময়ে তিনি ঢাকার বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসিয়ে তসবি, জায়নামাজ, আতর ও টুপি বিক্রি করতেন।
গত শুক্রবার পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কারাক জেলায় পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর এক অভিযানে ১৭ জন টিটিপি সদস্য নিহত হন। এ সময় ফয়সালও মারা যান। নিহতের বড় ভাই আরমান রোববার দুপুরে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ফয়সালের মা চায়না বেগম জানান, ‘দুই মাস আগে আমার সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল। তখন সে বলেছিল, মা, দুবাইতে ভালো আছি। আমি বলেছিলাম দেশে ফিরে পড়াশোনা করো। সে তখন বলেছিল, মা, আমি চলে আসব। কিন্তু আর ফিরে আসেনি। আমি জানতাম না সে পাকিস্তানে গেছে। মৃত্যুর খবর শুনে আমি হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করেছি।’
নিহতের দাদা শুক্কুর মোড়ল এবং নানা জয়নাল ব্যাপারী জানিয়েছেন, ফয়সাল ছিলেন সব নাতিপুতির মধ্যে সবচেয়ে আদর্শ, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত পড়ত, মসজিদে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসাত। কেউ ভাবতেই পারছিল না যে সে এমন পথে যাবে। তারা সরকারের কাছে দাবী জানিয়েছেন, লাশ দেশে আনা হোক এবং যারা ফয়সালকে ভুল পথে প্ররোচিত করেছে তাদের বিচার হোক।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অনুসন্ধান) জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে জঙ্গি হামলায় ফয়সালের মৃত্যু পুলিশ জানে। পরিবারের অনুরোধ থাকলে আইনগত সহায়তা দেওয়া হবে। লাশ ফেরত আনার যেকোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া ধর্মের অপব্যাখ্যা করে যুবকদের জঙ্গিবাদে প্ররোচিত করার বিষয়েও পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
দ্য ডিসেন্ট অনলাইন মিডিয়ার খবরে প্রথমবার এই তথ্য প্রকাশিত হয়। এরপর বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট পরিবার ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে টিটিপি অভিযানেও এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছিল। এক বছরের বেশি সময়ে অন্তত চারজন বাংলাদেশি পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন।
খবরওয়ালা/এন