খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৯ আগস্ট ২০২৫
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক এড়াতে জুন মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেননি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার (৮ আগস্ট) ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
জুনে কানাডায় অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের সময় মোদি অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ওই সময়ে ট্রাম্পের অনুরোধে দুই নেতা ৩৫ মিনিটের একটি ফোনালাপ করেন। ভারতীয় পক্ষের বিবৃতি অনুযায়ী, মোদি স্পষ্টভাবে জানান যে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধে বিরতি নিয়ে মধ্যস্থতার দাবি অস্বীকার করে, কারণ তা সরাসরি সামরিক চ্যানেলের মাধ্যমে এবং পাকিস্তানের অনুরোধে হয়েছে।
তবে মোদির কর্মকর্তারা যখন জানতে পারেন, পরের দিন ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাপ্রধান মুনিরকে হোয়াইট হাউসে লাঞ্চে আমন্ত্রণ জানাবেন, তখন মোদি সেই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন। কারণ তারা আশঙ্কা করেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে মোদি ও মুনিরের সরাসরি সাক্ষাৎ ঘটতে পারে, যা ভারতের জন্য কূটনৈতিক দিক থেকে অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এর আগে মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চারদিনের সামরিক সংঘর্ষের পর ট্রাম্প নিজেকে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দাবি করেন, যা ভারত সরকার বারবার অস্বীকার করেছে। পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়ে ভারতীয় নেতৃত্বের বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই আচরণ ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়েছে। বিশেষ করে ট্রাম্প যখন জুন মাসে ভারতের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন, তখন ভারত তা অন্যায় দাবি করে। এই শুল্ক বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতীয় অর্থনীতিকে ‘মৃত’ বলে অভিহিত করেছেন এবং ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য সমালোচনা করেছেন। এই পরিস্থিতি দুই দেশের দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারিত্বের জন্য বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
খবরওয়ালা/এন