খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে চৈত্র ১৪৩১ | ৫ই এপ্রিল ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
প্রতি বছরই শিক্ষার্থীদের হাতে নিম্নমানের কাগজের বই দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিভাবক, শিক্ষক থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলের তীর্যক সমালোচনার মুখে পড়তে হয় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে (এনসিটিবি)। সেই সমালোচনা এড়াতে এবার পাঠ্যবইয়ের কাগজে জলছাপ দেওয়া বাধ্যতামূলক করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। তাতে বইয়ের প্রতিটি পাতায় থাকবে এনসিটিবির লোগো সংবলিত জলছাপ। কাগজ হবে অফ হোয়াইট।
পাঠ্যপুস্তক বোর্ড সূত্র জানায়, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বই ছাপার কার্যক্রম এপ্রিল-মে মাস থেকে শুরু করতে চায় এনসিটিবি। পাঠ্যবই ছাপা ঘিরে সংকট ও সমালোচনা এড়াতে দুই ডজন শর্তারোপ করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তার মধ্যে জলছাপযুক্ত কাগজে বই ছাপা অন্যতম। এ নিয়ে ছাপাখানা ও কাগজের মিলমালিকসহ অংশীজনদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকও করেছেন পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের কর্মকর্তারা।
জলছাপযুক্ত কাগজে বই ছাপতে আগ্রহী অধিকাংশ ছাপাখানার মালিক। তবে কাগজের মিলমালিক ও কিছু ছাপাখানার মালিক এ উদ্যোগের বিরোধিতা শুরু করেছেন। পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সভায় বসেই বিষয়টি নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। তবে যে কোনো উপায়ে জলছাপযুক্ত কাগজে পাঠ্যবই ছাপানোর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে চায় এনসিটিবি। প্রয়োজনে বিদেশ থেকে কাগজ আমদানি করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আগামী প্রকাশনীর কর্ণধার এবং বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সাবেক সভাপতি ওসমান গণি। তিনি বলেন, ‘জলছাপযুক্ত অফ হোয়াইট কাগজে পাঠ্যবই ছাপার উদ্যোগ যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি বাস্তবায়ন করতে পারলে শিক্ষার্থীরা যেমন উপকৃত হবে, তেমনি প্রেস মালিকরা সবাই একই কাগজে বই ছাপাবেন। এটা ভালো উদ্যোগ বলে মনে করছি।’
এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদকাল শেষ হয়েছে গত ২৫ মার্চ। এর আগের দিন তিনি বলেন, ‘এনসিটিবি ঘিরে কালো একটি চক্র গড়ে উঠেছে। এখানে ভালো কাজ করতে গেলেও আপনাকে এ চক্রের ছোবল খেতেই হবে। ভালো মানের বই, ভালো কাগজ ও ছাপার বই দেওয়ার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করাটা দুরূহ হয়ে পড়ে।’
তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আমরা যারা দায়িত্ব পালন করেছি, করছি; তারা শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ভালো মানের কাগজ ও উজ্জ্বল কাগজে বই ছাপার ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি। আগামী বছরের জন্য আগেভাগে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেগুলো নিয়ে ছাপাখানার মালিক, মিলমালিকদের সঙ্গে আমরা বসেছিলাম। মতপার্থক্য কিছু রয়েছে। তবে এটা বাস্তবায়ন হওয়াটা জরুরি। আমার মেয়াদকাল শেষ, যদি আমি না থাকি; তাহলেও আশা করি যিনি আসবেন; যারা থাকবেন, তারা যেন এ পদক্ষেপগুলো এগিয়ে নেন। তাহলে শিক্ষার্থীরা নিঃসন্দেহে ভালো বই পাবে। একটা ঐতিহাসিক কাজ হবে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত। এবার বই ছাপাটা দারুণ চ্যালেঞ্জিং ছিল। তারপরও অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে এবার ভালো বই পেয়েছে শিক্ষার্থীরা। আগামী বছর থেকে আরও ভালো বই দেওয়ার সব ইতিবাচক সিদ্ধান্ত সরকার বাস্তবায়ন করবে। কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ালে তাদের রেখেই আমরা কাজ এগিয়ে নেবো।’
খবরওয়ালা/এমএজেড