খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 24শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৮ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ঘটনার শিকার হয়েছেন নিরব হোসেন নামে এক যুবক। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, তেল নিতে গিয়ে পাম্পের কর্মচারীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা এবং লাঠিপেটার ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে মারা যান।
নিহত নিরব হোসেন কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকার বাদুরগাছা গ্রামের আলীমুর বিশ্বাসের ছেলে। তিনি ঝিনাইদহ শহরের সরকারি বালক বিদ্যালয়ের পাশে একটি ফাস্টফুড ব্যবসা পরিচালনা করতেন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানা যায়, নিরব হোসেন শনিবার সন্ধ্যায় ‘তাজ ফিলিং স্টেশন’-এ বোতলে পেট্রোল নিতে যান। তবে কর্মচারীরা বোতলে তেল দিতে অস্বীকার করলে তিনি পাশের অন্য একটি পাম্পে যান। ফেরার পথে তিনি লক্ষ্য করেন যে একই পাম্পে অন্য একজনকে বোতলে তেল দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনা প্রতিহত করতে গিয়ে তার পাম্প কর্মচারীদের সঙ্গে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। তর্কের এক পর্যায়ে তিনজন কর্মচারী — লাঠি দিয়ে নিরবকে আঘাত করে, যা গুরুতর অবস্থার সৃষ্টি করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করান, কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঝিনাইদহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাম্পের তিন কর্মচারী — নাসিম হোসেন, রমিজুল ও দাউদ হোসেনকে র্যাব আটক করেছে। নিহতের মরদেহ বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহতের নাম | নিরব হোসেন |
| বয়স | আনুমানিক ২৫ বছর |
| বাড়ি | বাদুরগাছা, বারোবাজার, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ |
| পেশা | ফাস্টফুড ব্যবসায়ী, ছাত্র আন্দোলন কর্মী |
| হামলার স্থান | তাজ ফিলিং স্টেশন, ঝিনাইদহ শহর |
| সময় | ৭ মার্চ, সন্ধ্যা |
| সন্দেহভাজন আটক | নাসিম হোসেন, রমিজুল, দাউদ হোসেন |
| পরবর্তী পদক্ষেপ | মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে, মামলা দায়ের প্রস্তুতি |
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ ও র্যাব এলাকা ঘিরে রাখে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। ঝিনাইদহ সদর সার্কেল পুলিশ সুপার অফিস থেকে জানানো হয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলাটি দায়ের করা হবে এবং ঘটনার সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।
নিরব হোসেনের মৃত্যু স্থানীয় ছাত্র সমাজে শোকের ছায়া ফেলেছে। তার সঙ্গে কাজ করা সহকর্মীরা এবং ছাত্র আন্দোলনের নেতারা এই ঘটনায় দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনায় তেল ও জ্বালানি সংক্রান্ত নাগরিক অধিকার, পাম্পের দায়িত্বশীলতা এবং জননিরাপত্তা বিষয়ক প্রশ্নও উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তেল বোতল দেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের প্রতি পাম্প কর্মচারীদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে এ ধরনের মৃত্যুঝুঁকি প্রতিরোধ করা যায়।