খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানা এলাকায় একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে সোনাডাঙ্গা এলাকার একটি আবাসিক ভবন থেকে এই মরদেহগুলো উদ্ধার করে স্থানীয় থানা পুলিশ। মৃতদেহগুলোর মধ্যে একজন প্রবীণ নারী, একজন কিশোর এবং একটি শিশু রয়েছে। একই ঘর থেকে একই পরিবারের তিনজনের এই আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে গভীর উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরপরই সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও তদন্ত দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পুরো এলাকাটি কর্ডন করে প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় পারিবারিক সূত্রের বরাতে নিহতদের নাম ও সঠিক বয়স নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। নিহত তিন ব্যক্তি সম্পর্কে নানি ও নাতি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তদন্তের সুবিধার্থে এবং প্রাতিষ্ঠানিক নথিবদ্ধকরণের জন্য নিহতদের বিস্তারিত তালিকা নিচে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রমিক | নিহত ব্যক্তির নাম | বয়স | পরিবারের সাথে সম্পর্ক/অবস্থান |
| ০১ | বেবী বেগম | ৬০ বছর | প্রবীণ সদস্য ও পারিবারিক অভিভাবক |
| ০২ | শামীম ব্যাপারী | ১৩ বছর | কিশোর সদস্য (নাতি) |
| ০৩ | মোস্তাকিম ব্যাপারী | ৪ বছর | শিশু সদস্য (নাতি) |
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলের দিকে দীর্ঘক্ষণ ঘর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়। পরবর্তীতে ঘরের ভেতর অস্বাভাবিক পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন। তথ্য পাওয়ার পরপরই সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘটনাস্থলে প্রবেশ করে দরজা ভেঙে অথবা উন্মুক্ত অবস্থায় মরদেহগুলো পড়ে থাকতে দেখে। পুলিশ সদস্যরা সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে প্রতিটি মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন (Inquest Report) প্রস্তুত করেন। ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, পুলিশ খবর পাওয়া মাত্রই অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে। তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনাটি ঠিক কী কারণে ঘটেছে এবং মৃত্যুর পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া ও সুরতহাল সম্পন্ন করার পর মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের (Autopsy) উদ্দেশ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত ও সুনির্দিষ্ট কারণ—যেমন এটি বিষক্রিয়া, শ্বাসরোধ নাকি অন্য কোনো বাহ্যিক আঘাতের কারণে ঘটেছে, তা চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বর্তমানে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত ও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। পরিবারের অন্য কোনো সদস্য বা প্রত্যক্ষদর্শী আছেন কি না, তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং এই মৃত্যুর পেছনে কোনো ধরনের অপরাধমূলক চক্রান্ত থাকলে তা চিহ্নিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্তের স্বার্থে এবং প্রকৃত ঘটনা আড়াল হওয়া রোধে পুলিশ অত্যন্ত গোপনীয়তা ও পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছে।