মোশারফ হোসেন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল ২০২৫
আধুনিক পদ্ধতিতে হাইব্রিড জাতের পিঁয়াজ চাষ করে সাড়া ফেলেছে মনিরুল বিশ্বাস। ১৬ বিঘা জমিতে পিঁয়াজ চাষ করে বছরে তার আয় এখন প্রায় ২১ লাখ টাকা।
চাপাড়া ইউনিয়নের চাপড়ার মাঠে গিয়ে দেখা যায়, গানে গানে পিঁয়াজ তুলছে শ্রমিকরা। সেই পিঁয়াজ বাড়িতে এনে কাটিং করছে বিভিন্ন বয়সের নারীরা।
যেখানে বিঘা প্রতি জমিতে পিঁয়াজ চাষ করে ৬০ থেকে ৭০ মণ পিঁয়াজ উৎপাদন করতে হিমশিম খেতে হয় পিঁয়াজ চাষিদের । সেখানে বিঘা প্রতি হাইব্রিড জাতের পিঁয়াজ চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে মনিরুল বিশ্বাস ।তিনি প্রতি বিঘায় ১ শ’ থেকে ১ শ’ ১০ মণ পিঁয়াজ উৎপাদন করে সাড়া ফেলে দিয়েছে সবার মাঝে। মনিরুল বিশ্বাস এর পিঁয়াজ চাষের পদ্ধতি শিখতে, প্রতিদিন তার কাছে পরমর্শ নিচ্ছে পিঁয়াজ চাষিরা । বর্তমানে তার অধীনে ২০ থেকে ২৫ জন শ্রমিক প্রতিদিন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে পিঁয়াজের চাষ হয়ে থাকে। চলতি মৌসুমে ৪ হাজার ৮ শ’ ৯০ হেক্টর জমিতে পিঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চাইতেও এবার ১ শ’ ৭০ হেক্টর জমিতে পিঁয়াজ চাষ বেশি চাষ হয়েছে।
চলতি মৌসুমে প্রায় ১৬ বিঘা জমিতে ‘ সুপার কিং, লালতীড় কিং ও হাইব্রিড ‘ জাতের পেঁয়াজ চাষ করেন তিনি।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে বিঘা প্রতি ১ শ’ থেকে ১০ মণ পিঁয়াজ উৎপাদন করেছেন তিনি। পিঁয়াজের বাজার মূল্য ১২ শ’ থেকে ১৪ শ’ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে।খরচ খরচ্ছা বাদ দিয়ে প্রতি বছর ১২ লাখ টাকা আয় সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন এই কৃষক।
কৃষক মনিরুল ইসলাম উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের কবুর হাট গ্রামের কিনাজ উদ্দিন শেখের ছেলে।
চাপড়া ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, মনিরুল বিশ্বাস, পিঁয়াজ চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার। আমরাও তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে পিঁয়াজ চাষ করে সাফল্য অর্জন করেছি। বাজারে পিঁয়াজের দাম কিছুটা কম হলেও ফলন ভালো হওয়ায় পিঁয়াজে এবার লাভের আশায় আছি। এক বিঘা জমিতে পিঁয়াজ চাষে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। বর্তমানে বাজারে ১২ শ’ থেকে ১৪ শ’ টাকা মণ পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।
কৃষক মনিরুল বিশ্বাস বলেন, গত বছরে ২ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজ চাষ শুরু করেছিলাম। সেখান থেকে অল্প অল্প করে চাষ শেখা ও স্বপ্ন বুনা। এরপর সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে এক বিঘা দুই বিঘা করে বাড়তে থাকে পিঁয়াজ চাষ। এরপর আর জীবিকার জন্য পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। । চলতি মৌসুমে ১৬ বিঘা জমিতে সুপার কিং, লালতীর কিং ও হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ রোপর করা হয়। এবার ষোল বিঘা জমিতে পায় ১৬ শ’ মণের অধিক পিঁয়াজ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি। আধুনিক পদ্ধতিতে পিঁয়াজ চাষ এবং উন্নত জাতের পিঁয়াজ বীজের কারণে ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে।
কুমারখালী কৃষি কর্মকর্তা রাইসুল ইসলাম জানান, পিঁয়াজ চাষে মনিরুলের সফলতা ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। তার দেখাদেখি এ চাষে আগ্রহ বাড়িয়েছে অন্য চাষীরাও। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে মনিরুলের মতো অন্যান্য কৃষকরাও পেঁয়াজ ও পিঁয়াজের বীজ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। মনিরুল ইসলাম আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে পিঁয়াজের ভালো ফলন পাচ্ছে। বাড়বে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান। এমনটায় প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
খবরওয়ালা/এমএজেড