খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একইসঙ্গে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জাতীয় সংসদ অধিবেশন আহ্বানের তারিখ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন তিনি। আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বিগত কয়েক মাসের অস্থিরতা ও পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পুলিশ বাহিনীর চেইন অফ কমান্ড শক্তিশালী করতে সরকার বদ্ধপরিকর। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে, পুলিশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। তবে এই পরিবর্তনগুলো হুট করে না হয়ে একটি সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, “কিছু পরিবর্তন তো আসবেই, তবে এর জন্য আমাদের কিছুটা সময় দিতে হবে।” মূলত দক্ষ ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করাই এই রদবদলের মূল উদ্দেশ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রপতির প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আগামী ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করা হতে পারে। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, অধিবেশন শুরুর অন্তত ১৫ দিন আগে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হয়। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংসদ সচিবালয় থেকে একটি সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হবে এবং প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে মহামান্য রাষ্ট্রপতি চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন।
অধিবেশনের সম্ভাব্য আলোচ্যসূচি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, এই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জনস্বার্থে জারি করা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো আইন হিসেবে পাসের লক্ষ্যে সংসদে উপস্থাপন করা হবে। অধিবেশনের শুরুতে রাষ্ট্রপতির প্রথাগত ভাষণ এবং পরবর্তীকালে ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনার মধ্য দিয়ে সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| অধিবেশন শুরুর তারিখ | ১২ মার্চ ২০২৬ (সম্ভাব্য) |
| অধিবেশনের প্রধান কাজ | স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, অধ্যাদেশ উত্থাপন |
| পুলিশের পরিবর্তন | শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল ও সংস্কার প্রক্রিয়াধীন |
| আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি | মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী কঠোর অবস্থান |
| রাষ্ট্রপতির ভাষণ | অধিবেশনের শুরুতে প্রথাগত ভাষণ প্রদান করা হবে |
সম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আদাবরসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অস্থিতিশীলতা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংবাদ সরকারের দৃষ্টিগোচর হয়েছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অপরাধীদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় যাই হোক না কেন, জননিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটলে সরকার কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
নতুন রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার নির্বাচনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—জানতে চাইলে তিনি জানান, স্পিকার নির্বাচন যথাসময়ে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হবে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি। সরকারের বর্তমান লক্ষ্য হলো সংসদকে কার্যকর করা এবং দেশের সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পরিবর্তন এবং নিয়মিত সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার মাধ্যমে দেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও সুসংহত হবে।