খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটল ২১ ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের আমির এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান দেশের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানালেন। এটি প্রথমবারের মতো একটি জামায়াত আমির ব্যক্তিগতভাবে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করলেন। এই পদক্ষেপটি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে ব্যাপক নজর কাড়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান সকাল প্রায় ৬:৩০ মিনিটে শহীদ মিনারে উপস্থিত হন। তার আগেই রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ফুল অর্পণ করেছিলেন। ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির গুরুত্বপূর্ণ নেতারা—নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, হাসনাত আবদুল্লাহ—সাথে একাদশ-পার্টি জোটের অভিজ্ঞ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।
ফুল অর্পণের পর ডা. শফিকুর রহমান একটি ভাবগম্ভীর দোয়া পরিচালনা করেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতায় তিনি বললেন, “রাষ্ট্র স্বীকৃত এ দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন আমার নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে উপস্থিত থাকা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের পবিত্র দিনে কিছু প্রশ্ন করা অযথা। আমরা শুধুমাত্র ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদদের নয়, ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতা আন্দোলনের শহীদ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের শহীদদেরও স্মরণ করি। বিশেষভাবে আমরা দেশনেতৃত্বের অধীনে নির্যাতিতদের এবং যাঁরা দেশের অধিকার রক্ষায় জীবন বাজি রেখেছেন, তাদেরও শ্রদ্ধা জানাই।”
ডা. শফিকুর রহমান জানান, ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো শুধুমাত্র রাজনৈতিক কাজ নয়, এটি দেশের প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতা। তিনি বলেন, “আমাদের সংগ্রাম একটি মুক্ত, দমনমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক সমাজ গঠনের জন্য অব্যাহত থাকবে। এই প্রচেষ্টায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
দিনের শেষদিকে ডা. শফিকুর রহমান আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে ভাষা শহীদদের কবরের পাশে দোয়া করেন এবং তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।
নিচের টেবিলে ঐতিহাসিক শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানে উপস্থিত মূল ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| নাম | পদবী/সম্পর্ক | উপস্থিতির উদ্দেশ্য |
|---|---|---|
| ডা. শফিকুর রহমান | জামায়াত আমির, বিরোধীদলীয় নেতা | ফুল অর্পণ ও দোয়া পরিচালনা |
| নাহিদ ইসলাম | জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা | দলের প্রতিনিধিত্ব |
| আখতার হোসেন | রাজনৈতিক নেতা | দলের প্রতিনিধিত্ব |
| হাসনাত আবদুল্লাহ | রাজনৈতিক নেতা | দলের প্রতিনিধিত্ব |
| ১১-পার্টি জোটের অন্যান্য সিনিয়র নেতা | বিভিন্ন দল | শহীদদের সম্মিলিত শ্রদ্ধা |
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই পদক্ষেপকে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের ত্যাগের প্রতি জামায়াত দলের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। এটি ১৯৫২ সালের শহীদদের প্রতি জাতীয় শ্রদ্ধা পুনরায় প্রতিষ্ঠা করছে এবং রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিভাজন কমানোর প্রচেষ্টার একটি প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।