খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 2শে চৈত্র ১৪৩২ | ১৬ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার তিন মাস পর মো. তৌহিদুল ইসলাম মোল্যার মরদেহ একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃতকাণ্ডটি স্থানীয় মানুষ ও প্রশাসনকে শোকস্তব্ধ করেছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তৌহিদুল মোল্যা মুকসুদপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামের আকতার আলী মোল্লার ছেলে। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর হঠাৎ তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা এলাকার সম্ভাব্য সব স্থান খুঁজে দেখলেও তৌহিদুলের কোনো সন্ধান পাননি। তৎপরপরবর্তীতে, নিখোঁজ যুবকের কোনো হদিস না পেয়ে বাবা মুকসুদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও অভিযোগ দায়ের করেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে পার্শ্ববর্তী ভাকুড়ি গ্রামের একটি কচুরিপানা ভর্তি পুকুরে স্থানীয়রা পরিষ্কারকাজের সময় পানির নিচে একটি মরদেহ দেখতে পান। তারা চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন জড়ো হয় এবং পুলিশকে খবর দেয়। মুকসুদপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মরদেহটি তৌহিদুলের পরনের পোশাক ও অন্যান্য চিহ্নের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। মৃতদেহটি দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকার কারণে অত্যন্ত গলিত অবস্থায় ছিল। উদ্ধারকৃত মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “নিখোঁজের তিন মাস পর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এটি হত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার পর নিশ্চিত হবে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
নিম্নে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| মৃতকাণ্ডের নাম | মো. তৌহিদুল ইসলাম মোল্যা |
| বয়স | প্রাপ্ত তথ্য নেই |
| গ্রামের নাম | লতিফপুর, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন, মুকসুদপুর, গোপালগঞ্জ |
| নিখোঁজ হওয়া তারিখ | ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ |
| উদ্ধারকৃত তারিখ | ১৬ মার্চ ২০২৬ |
| উদ্ধার স্থান | ভাকুড়ি গ্রামের কচুরিপানা ভর্তি পুকুর |
| উদ্ধারকারী | স্থানীয়রা ও মুকসুদপুর থানা পুলিশ |
| মরদেহের অবস্থা | দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকার কারণে গলিত |
| পরবর্তী ব্যবস্থা | ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ |
স্থানীয়রা মনে করছেন, নিখোঁজ হওয়ার পর যুবকের মরদেহ পুকুরে ফেলা হয়েছে, তবে বিষয়টি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর নিশ্চিতভাবে জানা যাবে। পরিবার শোকের মধ্যে রয়েছেন এবং পুলিশ তদন্তে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে।