খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নতুন সংসদের এ অধিবেশনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রথম দিনের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন কে—এ প্রশ্নটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। সেই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করেই ১২ মার্চ অধিবেশন বসার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে উপস্থাপন করা হবে এবং প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি অধিবেশন আহ্বান করবেন।
প্রথম দিনের কার্যসূচিতে রয়েছে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর মনোনয়ন, শোক প্রস্তাব উত্থাপন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশ উপস্থাপন। তবে জটিলতা দেখা দিয়েছে অধিবেশনের সূচনালগ্নে সভাপতিত্ব নিয়ে। বিদায়ী দ্বাদশ সংসদের স্পিকার পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার কারাবন্দী থাকায় তারা দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।
জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো সদস্য অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে পারেন। ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচনের পর সরকারি ও বিরোধী দলের সমঝোতায় জ্যেষ্ঠ এক সদস্যকে সভাপতিত্বের দায়িত্ব দেওয়ার নজির রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এবারও একাধিকবার নির্বাচিত অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ কোনো সদস্যকে দিয়ে প্রথম বৈঠক শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিরোধী দলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর আমির ডা. শফিকুর রহমানের দলীয় সহকর্মীরা জানিয়েছেন, সরকার উদ্যোগ নিলে বিরোধী দল পূর্ণ সহযোগিতা করবে। তারা সংসদের মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক চর্চা সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
সংবিধান অনুযায়ী, প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ প্রদান করবেন। মন্ত্রিসভার অনুমোদনক্রমে প্রস্তুত এ ভাষণের মাধ্যমে সরকারের নীতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরা হবে। ভাষণ শেষে অধিবেশন মুলতবি করা হবে এবং পরবর্তীতে ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী ২৯৭টি আসনের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে এবং জামায়াত ৬৮টি আসন পেয়েছে। অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র সদস্যরাও প্রতিনিধিত্ব করছেন।
নিচে নির্বাচনের ফলাফলের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো—
| দলীয় নাম | প্রাপ্ত আসন সংখ্যা |
|---|---|
| বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল | ২০৯ |
| বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী | ৬৮ |
| অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র | ২০ |
| মোট | ২৯৭ |
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর সংসদে তুলনামূলক শক্তিশালী বিরোধী দলের উপস্থিতি থাকায় এবারের অধিবেশন প্রাণবন্ত ও ফলপ্রসূ হতে পারে। বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে গঠনমূলক বিতর্ক ও জবাবদিহিতামূলক আলোচনা সংসদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করে তুলবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।