খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে পৌষ ১৪৩২ | ২ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সদ্য সমাপ্ত বছরটি প্রমাণ করেছে যে, প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। দেশীয় বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভে প্রবাসী আয় সরাসরি প্রভাব ফেলেছে, বিশেষ করে ডিসেম্বর মাসে, যখন রেমিট্যান্সের প্রবাহ উল্লিখনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি শুধু বছরের শক্তিশালী সমাপ্তি নয়, বরং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় একটি মাইলফলক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মোট রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ৩২.৮২ বিলিয়ন ডলার, যা প্রায় সমান দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের। অর্থনীতিবিদরা এটিকে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন, বিশেষ করে এমন সময় যখন অনেক উন্নয়নশীল অর্থনীতি বৈদেশিক চাপের মুখোমুখি।
শুধু ডিসেম্বর মাসেই রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩.২২ বিলিয়ন ডলার, যা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাসিক রেমিট্যান্স। তুলনামূলকভাবে, নভেম্বর মাসে এটি ছিল ২.৮৯ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ মাত্র এক মাসে প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রবাসীরা বাড়তি অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বেশি ছিল। এছাড়া সরকারি বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থা বৃদ্ধি এবং আনুষ্ঠানিক রেমিট্যান্স চ্যানেল ব্যবহারের জন্য উদ্দীপনা এই প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে।
২০২৫ সালের পুরো বছরে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ বেড়ে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার হয়েছে, যা গত তিন বছরের সর্বোচ্চ। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ২০২৪ সালের আগস্টে রিজার্ভ কমে ২৬ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত নেমেছিল এবং ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে ১২৮ টাকা হয়েছিল। এরপর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হয়ে বর্তমানে ডলারের বিনিময় হার প্রায় ১২২ টাকা।
নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ সংক্রান্ত তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| সূচক | পরিমাণ |
|---|---|
| ডিসেম্বর ২০২৫-এর রেমিট্যান্স | ৩.২২ বিলিয়ন ডলার |
| নভেম্বর ২০২৫-এর রেমিট্যান্স | ২.৮৯ বিলিয়ন ডলার |
| ২০২৫ সালের মোট রেমিট্যান্স | ৩২.৮২ বিলিয়ন ডলার |
| সর্বশেষ মোট বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ | ৩৩.১৮ বিলিয়ন ডলার |
| BPM-6 পদ্ধতিতে রিজার্ভ | ২৮.৫১ বিলিয়ন ডলার |
| ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ডলার ক্রয় | ৩.১৩ বিলিয়ন ডলার |
মোটকথা, প্রবাসী আয় বাংলাদেশে বৈদেশিক অবস্থান দৃঢ় করেছে, অর্থনীতিতে আস্থা ফিরিয়েছে এবং ভবিষ্যতের আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে।