খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একযোগে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে সামনে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নেওয়া উদ্যোগে বড় ধরনের সাড়া মিলছে। ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধিত প্রবাসী ভোটারের সংখ্যা চার লাখ ৪৫ হাজার ছাড়িয়েছে, যা প্রবাসী ভোটগ্রহণ ব্যবস্থায় একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত মোট ৪ লাখ ৪৫ হাজার ২৬ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪ লাখ ১৭ হাজার ৩৫৯ জন এবং নারী ভোটার ২৭ হাজার ৬৬৫ জন। নিবন্ধিতদের একটি অংশ এখনো যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকলেও বিপুলসংখ্যক আবেদন ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, মোট নিবন্ধনের মধ্যে ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৪১৮ জনের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে। আর যাচাই ও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে ৬ হাজার ৬০৮টি আবেদন। কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবেদন যাচাই শেষে এসব নিবন্ধনও দ্রুত অনুমোদনের আওতায় আনা হবে।
| বিষয় | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট নিবন্ধিত ভোটার | ৪,৪৫,০২৬ জন |
| পুরুষ ভোটার | ৪,১৭,৩৫৯ জন |
| নারী ভোটার | ২৭,৬৬৫ জন |
| অনুমোদিত নিবন্ধন | ৪,৩৮,৪১৮ জন |
| অনুমোদনের অপেক্ষায় | ৬,৬০৮ জন |
এবারই প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় ভোটগ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই ব্যবস্থার আওতায় প্রবাসী ভোটারদের পাশাপাশি আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তি এবং নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারাও ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন। ভোট দিতে হলে নির্ধারিত অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গত ১৯ নভেম্বর থেকে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
ইসি জানিয়েছে, নিবন্ধন সম্পন্ন ও অনুমোদনের পর ভোটারদের ঠিকানায় ডাকযোগে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হবে। ভোটাররা ব্যালটে ভোট প্রদান করে নির্ধারিত ফিরতি খামে তা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, যাতে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ছাড়াও আফ্রিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার বহু দেশে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন চলছে। ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, অতীতে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা কার্যকর না হলেও এবার প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার কারণে প্রবাসীদের মধ্যে আগ্রহ অনেক বেশি।
নির্বাচন কমিশন আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ লাখ প্রবাসী ভোটারকে এই প্রক্রিয়ার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কমিশনের আশা, নিবন্ধনের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে প্রবাসী ভোটগ্রহণ বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করবে।