খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও এর অধীন দপ্তরগুলোর রাজস্ব খাতভুক্ত পদে জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ২ ক্যাটাগরির পদে মোট ৪৭০টি শূন্য পদে নিয়োগ দেবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এতে অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে ২২৪ জন ও হিসাব সহকারী পদে ২৪৬ জন নিয়োগ পাবে। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা ছাড়া অন্য সব জেলার প্রার্থীরা সুযোগ পাবেন। আবেদনের শেষ তারিখ ১২ অক্টোবর ২০২৫। দায়িত্ব, নিয়োগ পরীক্ষা পদ্ধতি ও প্রস্তুতি নিয়ে লিখেছেন সাজিদ মাহমুদ
পদভেদে দায়িত্ব
অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদের মূল কাজ—প্রতিষ্ঠানের নানা ধরনের প্রশাসনিক চিঠিপত্র তৈরি করা, সংশ্লিষ্ট কাজের ফাইল তৈরি ও সংরক্ষণ, ডাটা এন্ট্রিসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দায়িত্ব পালন করা। এ ছাড়া দপ্তরভেদে অন্যান্য প্রশাসনিক কাজে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করা। একজন হিসাব সহকারীর মূল কাজ হলো প্রতিষ্ঠানের হিসাবসংশ্লিষ্ট কাজ, যেমন—বিল পরিশোধ, দৈনন্দিন লেনদেনের হিসাব রাখা, ব্যাংক লেনদেনের রেকর্ড রাখা, বিল-ভাউচার সংরক্ষণ, হিসাবরক্ষণ সফটওয়ারে বিল এন্ট্রি করা, বিভিন্ন আর্থিক নথি সংরক্ষণ ও অডিটের জন্য আর্থিক সব ধরনের ফাইল তৈরি করা।
নিয়োগ পরীক্ষা যেমন হবে
উভয় পদেই তিন ধরনের পরীক্ষা (লিখিত, ব্যাবহারিক ও মৌখিক) নেওয়া হবে।
নির্ধারিত তারিখের মধ্যে পাওয়া সব আবেদন যাচাই-বাছাই করে যোগ্য প্রার্থীদের প্রথমেই লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই কেবল ব্যাবহারিক পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে। লিখিত ও ব্যাবহারিক উভয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে জানানো হবে ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষার তারিখ। লিখিত পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও অন্যান্য দরকারি তথ্য পাওয়া যাবে অধিদপ্তরের সাইটে (dpe.gov.bd)।
নিয়োগ পরীক্ষা, কোটা নির্ধারণ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও সরকারের সর্বশেষ বিধি অনুসরণ করা হবে।
পরীক্ষার বিষয় ও নম্বর বণ্টন
মন্ত্রণালয় বা বিভাগে সংযুক্ত অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও দপ্তরের ‘কমন পদ নিয়োগ বিধিমালা-২০১৯’ অনুযায়ী বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। বিষয়ভিত্তিক নম্বর থাকবে বাংলায় ২০, ইংরেজিতে ২০, গণিতে ১৫ ও সাধারণ জ্ঞানে ১৫। লিখিত, ব্যাবহারিক ও মৌখিক—এই তিন ধরনের পরীক্ষা মিলিয়ে মোট ১৫০ নম্বর থাকবে।
প্রথমেই ৭০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা। এরপর ৫০ নম্বরের ব্যাবহারিক এবং সর্বশেষ ৩০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। লিখিত পরীক্ষা হবে দেড় ঘণ্টার এবং ব্যাবহারিক পরীক্ষা হবে ১০ মিনিটের। চূড়ান্ত নির্বাচনের জন্য প্রার্থীকে তিন ধরনের পরীক্ষাতেই ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। বিগত পরীক্ষার আলোকে বলা যায়, নিয়োগ কর্তৃপক্ষ কোনো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষা নেয়।
পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি
বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান এই চার বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এনসিটিবি নির্ধারিত অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্যবই অনুসরণ করতে হবে। বাংলা বিষয়ের প্রস্তুতিতে ব্যাকরণ অংশের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যেমন— ভাষা, ধ্বনিতত্ত্ব, বাক্য প্রকরণ, সমাস, উপসর্গ-অনুসর্গ, পদ প্রকরণ, কারক, সন্ধিবিচ্ছেদ, এককথায় প্রকাশ, বাগ্ধারা, প্রত্যয়, প্রবাদ-প্রবচনে বেশি জোর দিতে হবে। ইংরেজি বিষয়ের ইংরেজির গ্রামার অংশে Transformation of verbs, Phrases & idioms, Translation, Fill in the blank, Sentence making, Correction, Narration, Voice, Parts of speech-সহ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো পড়তে হবে। পাটিগণিত, বীজগণিত এই দুটো অংশ থেকে প্রশ্ন আসে। প্রশ্ন আসে জ্যামিতি থেকেও। পাটিগণিতে লসাগু, গসাগু, শতাংশ, গড় নির্ণয়, শতকরা, সুদকষা, অনুপাত ও সমানুপাত অধ্যায়। বীজগণিতে উৎপাদক, মাননির্ণয় অধ্যায়টা আয়ত্তে রাখতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সহ বিজ্ঞান, কম্পিউটার, ইতিহাস, সংস্কৃতি, বাংলাদেশ প্রসঙ্গ ও বিশ্ব— এসব বিষয়ের ওপর প্রস্তুতি রাখতে হবে। বেশ কিছু প্রকাশনী তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের বিভিন্ন পদের পরীক্ষার প্রস্তুতি সহায়ক বই প্রকাশ করে। বইগুলোতে বিগত বছরের প্রশ্ন প্যাটার্ন ও সমাধান সংযুক্ত করা হয়। বইগুলো প্রস্তুতিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।
আবেদনের যোগ্যতা
অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে প্রার্থীকে ২য় বিভাগ বা সমমানের জিপিএসহ এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং কম্পিউটার এমএস ওয়ার্ডে কাজের দক্ষতাসহ প্রয়োজনীয় টাইপিং স্পিড থাকতে হবে। হিসাব সহকারী পদে প্রার্থীকে ২য় বিভাগ বা সমমানের জিপিএসহ এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং কম্পিউটার এমএস ওয়ার্ডে কাজের দক্ষতা থাকতে হবে। উভয় পদের ক্ষেত্রেই ১২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে প্রার্থীর বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৩২ বছর।
খবরওয়ালা/এফএস