খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে মাঘ ১৪৩২ | ২৫ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ফুটবল যেমন একটি বৃহৎ পরিসরের খেলা, তেমনি ফুটসাল হলো তারই দ্রুতগতির, সংক্ষিপ্ত ও কৌশলনির্ভর রূপ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই দুই ধারার মধ্যে পার্থক্য যেমন স্পষ্ট হয়েছে, তেমনি আলাদা আলাদা দর্শক ও খেলোয়াড়গোষ্ঠীও তৈরি হয়েছে। মাঠের আকার, খেলোয়াড়সংখ্যা, নিয়মকানুন ও খেলার গতির দিক থেকে ফুটবল ও ফুটসালের মধ্যে রয়েছে উল্লেখযোগ্য ভিন্নতা।
ফুটসাল মূলত এমন একটি খেলা, যেখানে বল নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত পাসিং ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সাধারণত একটি ফুটসাল দলে মাঠে থাকে পাঁচজন খেলোয়াড়, যার মধ্যে একজন গোলরক্ষক। সর্বোচ্চ ১২ জন খেলোয়াড় দলে রাখা যায় এবং খেলার সময় সীমাহীন বদলির সুযোগ থাকায় খেলাটি আরও গতিশীল হয়ে ওঠে। এর বিপরীতে, ফুটবলে মাঠে ১১ জন খেলোয়াড় এবং বদলির সংখ্যা নির্দিষ্ট।
ফুটসালের যাত্রা শুরু হয় প্রায় ১৯৩০-এর দশকে দক্ষিণ আমেরিকায়। অল্প জায়গায় ফুটবল খেলার প্রয়োজনে এই খেলাটি ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পায় এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করে। ফুটসালের মাঠ ফুটবল মাঠের তুলনায় অনেক ছোট। সাধারণত এর দৈর্ঘ্য ২৭ থেকে ৪২ গজ এবং প্রস্থ ১৭ থেকে ২৭ গজের মধ্যে হয়ে থাকে। এই ছোট পরিসরই খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে, ফলে খেলায় গতি ও উত্তেজনা বাড়ে।
ফুটসাল মাঠ সাধারণত কৃত্রিম টার্ফ, ভিনাইল বা শক্ত পৃষ্ঠের হয়ে থাকে। এতে ব্যবহৃত বল আকারে তুলনামূলক ছোট এবং কম বাউন্স করে, যাতে মাটিতে বল নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। চার নম্বর সাইজের এই বলের ওজন প্রায় ৪০০ থেকে ৪৪০ গ্রাম। ফুটসাল ম্যাচের মোট সময় ৪০ মিনিট, যা দুই অর্ধে বিভক্ত; প্রতিটি অর্ধের সময় ২০ মিনিট।
নিয়মের ক্ষেত্রেও ফুটসালের নিজস্বতা রয়েছে। এখানে থ্রো-ইনের পরিবর্তে কিক-ইন ব্যবহৃত হয়। গোলরক্ষক বল হাতে নেওয়ার পর চার সেকেন্ডের মধ্যে তা ছাড়তে বাধ্য। এক অর্ধে কোনো দল ছয় বা তার বেশি ফাউল করলে প্রতিপক্ষ সরাসরি পেনাল্টি শট পায়, যা গোলপোস্ট থেকে ছয় মিটার দূর থেকে নেওয়া হয়।
ফুটসালের আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ১৯৮৯ সাল থেকে নিয়মিতভাবে ফিফা ফুটসাল বিশ্বকাপ আয়োজন করা হচ্ছে। ব্রাজিল এই আসরের সবচেয়ে সফল দল, তারা ছয়বার শিরোপা জিতেছে। এশিয়া মহাদেশে ফুটসালে ইরানের আধিপত্য সবচেয়ে বেশি, তারা এশিয়ান পর্যায়ে ১৩ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে ফুটসালের প্রসার ঘটছে। বিভিন্ন ক্লাব, একাডেমি ও করপোরেট টুর্নামেন্টের মাধ্যমে খেলাটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের উপস্থিতিও সম্প্রতি চোখে পড়ার মতো। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রথমবার জাতীয় পুরুষ ফুটসাল দল আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেয়। নারী ফুটসাল দল আরও আগে, ২০১৮ সালে এএফসি চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ করে এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রথম সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়ে।
| বিষয় | ফুটবল | ফুটসাল |
|---|---|---|
| মাঠের আকার | বড় (১০০+ গজ) | ছোট (২৭–৪২ গজ) |
| খেলোয়াড়সংখ্যা | ১১ জন | ৫ জন |
| খেলার সময় | ৯০ মিনিট | ৪০ মিনিট |
| বদলি | সীমিত | সীমাহীন |
| থ্রো/কিক | থ্রো-ইন | কিক-ইন |
সব মিলিয়ে বলা যায়, ফুটবল ও ফুটসাল—দুই খেলাই আলাদা বৈশিষ্ট্য ও আকর্ষণ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বড় মাঠের কৌশলনির্ভর ফুটবলের পাশাপাশি ছোট মাঠের দ্রুতগতির ফুটসাল আধুনিক ক্রীড়াজগতে সমান গুরুত্ব পাচ্ছে।