খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
দেশের ফুটবলের অন্যতম শক্তি ও ঐতিহ্যের প্রতীক আবাহনী লিমিটেড ফেডারেশন কাপে এক নজিরবিহীন বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল, ২০২৬) রাজধানীর বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের ম্যাচে পিডব্লিউডি স্পোর্টস ক্লাবের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছে রেকর্ড ১২ বারের শিরোপাধারীরা। ২০১৮-২০১৯ মৌসুমের পর এই প্রথম আকাশী-নীল জার্সিধারীদের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হলো, যা দেশের ফুটবল মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
বৃষ্টিসিক্ত কর্দমাক্ত মাঠে খেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই আবাহনী লিমিটেড তাদের চিরচেনা আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসে। বলের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে প্রবেশের ক্ষেত্রে শেখ মোরছালিন ও আসাদুল ইসলামরা সফল হলেও চূড়ান্ত ফিনিশিংয়ের অভাবে বারবার গোলবঞ্চিত হতে হয়েছে তাদের। বিশেষ করে পিডব্লিউডির গোলরক্ষক সারোয়ার জাহানের অসামান্য দক্ষতায় আবাহনীর সব প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
ম্যাচের প্রথমার্ধের নাটকীয় কিছু মুহূর্ত:
১০ম মিনিট: আবাহনীর কাজেম শাহর একটি দূরপাল্লার শক্তিশালী শট পিডব্লিউডির গোলরক্ষক সারোয়ার কর্নারের বিনিময়ে দুর্দান্তভাবে রুখে দেন।
২২শ মিনিট: ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি হাতছাড়া করেন আবাহনীর আল আমিন। গোলরক্ষককে একা পেয়েও তাঁর দুর্বল চিপ শটটি সারোয়ার স্লাইড করে ঠেকিয়ে দেন।
৩০শ মিনিট: শেখ মোরছালিনের একটি জোরালো শট ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিহত করেন সারোয়ার। এরপর সুলেমান দিয়াবাতের আক্রমণগুলোও পিডব্লিউডির জমাট রক্ষণভাগে প্রতিহত হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আবাহনী গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে, কিন্তু ম্যাচের ৬৫ মিনিটে ঘটে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। পাল্টা আক্রমণ থেকে আলী উজাইরের পাস ধরে সুশান্ত ত্রিপুরাকে কাটিয়ে বাইলাইন থেকে বক্সে কাটব্যাক করেন আবু সাঈদ। সেখানে ওত পেতে থাকা জাতীয় দলের সাবেক মিডফিল্ডার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ একটি নিখুঁত প্লেসিং শটে গোলরক্ষকের পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে জড়ান। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে স্তব্ধ হয়ে যায় আবাহনী শিবির।
ম্যাচের শেষ দিকে এবং যোগ করা সময়ে সুলেমান দিয়াবাতে সমতায় ফেরার একাধিক চেষ্টা চালান। তবে মালির এই ফরোয়ার্ডের একটি শট ব্লক হয় এবং শেষ মুহূর্তের একটি হেড গোলপোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে গেলে আবাহনীর বিদায় নিশ্চিত হয়। ১২ বারের চ্যাম্পিয়নদের মাঠ ছাড়তে হয় পরাজয় ও গ্লানি নিয়ে।
গ্রুপের অন্য ম্যাচে কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটি বনাম ফকিরেরপুল ইয়াংমেন্স ক্লাবের খেলাটি গোলশূন্য ড্র হয়। ৪ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে রহমতগঞ্জ গ্রুপ রানার্স-আপ হিসেবে নকআউট পর্বে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ৪ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান দখল করে আগেই পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত করেছে।
পিডব্লিউডি স্পোর্টস ক্লাব ৪ ম্যাচে ২ জয়ে ৬ পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধান ও রহমতগঞ্জের ড্রয়ের ফলে তারা নকআউট পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে আবাহনী লিমিটেড; ৪ ম্যাচে মাত্র ১ জয় ও ১ ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থ স্থানে থেকে তাদের টুর্নামেন্ট শেষ করতে হয়েছে।
ফেডারেশন কাপের ইতিহাসে আবাহনী মানেই এক অপরাজেয় শক্তির নাম। অথচ বর্তমান প্রিমিয়ার লিগে দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলটি টুর্নামেন্টের নতুন বা অপেক্ষাকৃত ছোট দলগুলোর বিপক্ষে যেভাবে পয়েন্ট হারিয়েছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। শেখ মোরছালিন ও সুলেমান দিয়াবাতের মতো তারকা সমৃদ্ধ আক্রমণভাগ নিয়ে কেন গোল খরা কাটানো সম্ভব হলো না, সেই প্রশ্ন এখন ফুটবল মহলে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৭ বছরের দীর্ঘ বিরতির পর ফেডারেশন কাপের নকআউট পর্ব এবার আবাহনীকে ছাড়াই আয়োজিত হতে যাচ্ছে।
গ্রুপ পর্ব শেষে পয়েন্ট টেবিলের সংক্ষিপ্ত চিত্র:
| দল | ম্যাচ | জয় | ড্র | হার | পয়েন্ট | অবস্থান |
| ব্রাদার্স ইউনিয়ন | ৪ | ৩ | ১ | ০ | ১০ | ১ম (উত্তীর্ণ) |
| রহমতগঞ্জ এমএফএস | ৪ | ১ | ২ | ১ | ৫ | ২য় (উত্তীর্ণ) |
| পিডব্লিউডি স্পোর্টস ক্লাব | ৪ | ২ | ০ | ২ | ৬ | ৩য় |
| আবাহনী লিমিটেড | ৪ | ১ | ১ | ২ | ৪ | ৪র্থ |
| ফকিরেরপুল ইয়াংমেন্স | ৪ | ০ | ২ | ২ | ২ | ৫ম |