খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 1শে চৈত্র ১৪৩২ | ১৫ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় কৃষিজমি থেকে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় আবু আহাম্মদ (৩৭) নামে একজন যুবদল কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুই জন। পুলিশ ছাত্রদল নেতাসহ মোট সাতজনকে আটক করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার (১৪ মার্চ) রাত প্রায় তিনটায় পাঠাননগর ইউনিয়নের পূর্ব শিলুয়া এলাকার কন্ট্রাক্টর মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত আবু আহাম্মদ পূর্ব শিমুলিয়া এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, তিনি স্থানীয় যুবদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
গুরুতর আহতরা হলেন:
আলা উদ্দিন সুজন (৩০), পাঠাননগর ইউনিয়নের পূর্ব পাঠানগড় গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে।
নূরুল আলম কালা (৪০), নিহতের বড় ভাই।
তাদেরকে উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসকরা আবু আহাম্মদকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে, আর নূরুল আলম কালা বর্তমানে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীন মিয়া বলেন, “মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে একজন নিহত ও দুই জন আহত হয়। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।”
স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা অভিযোগ করেছেন, সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু কৃষিজমির মাটি কাটার কার্যক্রম বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তবে বিএনপির অঙ্গসংগঠন ও সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতা–কর্মী প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কাটতেন এবং তা ইটভাটায় সরিয়ে নিতেন।
এ ঘটনায় পুলিশ আটকের বিস্তারিত তথ্য নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| ধরা পড়া ব্যক্তির সংখ্যা | সংশ্লিষ্ট সংগঠন | বর্তমান অবস্থান |
|---|---|---|
| ৭ | ছাত্রদল ও স্থানীয় যুবদল | পুলিশ হেফাজতে |
তবে ছাগলনাইয়া উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মোহাম্মদ আলমগীর বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “নিহত ব্যক্তি বিএনপির কোনো অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে জড়িত নন। রাতের আঁধারে মাটি কাটার ঘটনায় বিএনপি বা এর অঙ্গসংগঠনের কেউ জড়িত নয়। প্রশাসনের কার্যক্রমে অনিয়ম থাকায় বিভিন্ন চক্র এই কাজ চালাচ্ছে।”
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছিল। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এই কর্মকাণ্ড চলার ফলে এলাকায় উত্তেজনা বেড়ে যায়, যা অবশেষে সংঘর্ষের রূপ নেয়।