খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ১৮ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
১৮ জানুয়ারি ২০০৩—একটি দিন, যা বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে আলাদা এক আলোয় জ্বলে। সেদিন ছিল শনিবার বিকেল। ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম উত্তাল মুহূর্তের পর মুহূর্তে। আকাশ-বাতাস কাঁপছিল এক নামেই—মতিউর রহমান মুন্না।
গ্যালারি ভরে ওঠা দর্শকদের গর্জন তখন একটাই—“মুন্না! মুন্না!”
বাংলাদেশের ফুটবলে মুন্না আজও অমর। কারণ, সেদিনই তিনি করেছিলেন দেশের ইতিহাসের একমাত্র গোল্ডেন গোল, যা এনে দিয়েছিল ভারতের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় জয়।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনাল ম্যাচ। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত স্কোর ১–১। অতিরিক্ত সময়ের ৯৮ মিনিটে, প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে মুন্নার বাঁ-পায়ের শট বজ্রের গতিতে ভেদ করে ভারতের জাল। গোল হতেই খেলা শেষ—বাংলাদেশ জয়ী।
যদিও ফিফার নিয়মে গোল্ডেন গোল ম্যাচ ড্র হিসেবেই নথিভুক্ত হয়, কিন্তু বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে সেদিন ছিল এক বিশুদ্ধ উৎসব।
৭৭ মিনিটে আরমান মিয়ার কর্নার থেকে রোকনুজ্জামান কাঞ্চন অসাধারণ হেডে গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন।
৮১ মিনিটে মাঝমাঠে বল হারানোর সুযোগ কাজে লাগান ভারতের বদলি মিডফিল্ডার আলভিটো ডি কুনহা। ১৮ গজের বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর শট বাংলাদেশ গোলরক্ষক আমিনুলের হাত ফসকে জালে প্রবেশ করে। স্তব্ধ হয়ে যায় ৫০ হাজার দর্শক।
মাঝমাঠে ‘ওয়াল পাস’ করে সামনে এগিয়ে এসে মুন্না আচমকাই শট নেন। আলফাজরা অবাক হয়ে দেখছিলেন সেই গোল—যেন ফুটবলের যাদু।
আলফাজের স্মৃতিতে এখনও ভাসে—
“আমরা ভাবিনি এভাবে গোল হবে। সেটা ছিল এক অনন্য অনুভূতি।”
বাংলাদেশ বারবার গোল মিস করেছিল—
কাঞ্চনের শট গোললাইন থেকে ফিরে আসে
জয়ের ভলি বাইরে যায়
দ্বিতীয়ার্ধে ফাঁকা পোস্টেও বল ঢোকে না
ভারত ভাগ্যবান ছিল, কিন্তু গোল্ডেন গোল তাদের রক্ষা করতে পারেনি।
| অবস্থান | খেলোয়াড় |
|---|---|
| গোলরক্ষক | আমিনুল |
| ডিফেন্ডার | সুজন, নজরুল, রজনী |
| মিডফিল্ডার | আরমান, মতিউর মুন্না, জয় |
| ফরোয়ার্ড | আলফাজ, কাঞ্চন |
| বদলি | পারভেজ বাবু (ফরহাদ), হাসান আল মামুন (টিটু), উজ্জ্বল |
৫ হাজার দর্শকে উপচে পড়া স্টেডিয়ামে ভারতের গোলের পর নেমে এসেছিল নীরবতা। তারপর মুন্নার গোল—আরেক দফা বিস্ফোরণ। প্রেস বক্সে বসে সাংবাদিকরাও শিহরিত ছিলেন।
ভারতের ম্যানেজার দেবজ্যোতি মুখার্জি বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়ে বাংলায় বলেছিলেন—
“আপনারা দুর্দান্ত খেলেছেন।”
বাংলাদেশ কোচ জর্জ কোটান, যিনি নিজেকে প্রায় বাংলাদেশি মনে করতেন, বলেছিলেন—
“আমাদেরই জেতার কথা ছিল।”
কাঞ্চন আজও আবেগে ভাসেন—
“আমার আরও একটি গোল ছিল। প্রযুক্তি থাকলে সেটি বৈধ হতো।”
তবে তিনি সমালোচনা করতেও ভুললেন না—
“আজকের দল পরিকল্পনার অভাবে ভুগছে। কোচ দলটা ঠিকমতো সাজাতে পারছেন না।”
২২ বছর পর বাংলাদেশ আবার ভারতকে হারাতে পারবে কি?
আজকের নায়ক কে হবেন—
হামজা চৌধুরী? শমিত সোম? রাকিব হোসেন?
নাকি জন্ম নেবে নতুন কোনো মুন্না?