খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে চৈত্র ১৪৩২ | ২৬ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১১ হাজার ৩৫১ কোটি ডলার হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এটি প্রায় ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ১৭৩ কোটি টাকার সমতুল্য। এটি সেপ্টেম্বরের ১১২ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি এবং জুনের ১১৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়নের তুলনায় সামান্য কম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব ঋণের বড় অংশ দীর্ঘমেয়াদি ঋণ।
| খাত | ঋণের পরিমাণ (বিলিয়ন ডলার) | শতাংশ (%) |
|---|---|---|
| সরকারি খাত | ৯৩.৪৬ | ৮২.৪ |
| বেসরকারি খাত | ২০.০৫ | ১৭.৬ |
| মোট | ১১৩.৫১ | ১০০ |
মোট ঋণের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ৮৭ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং স্বল্পমেয়াদি ১২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। সরকারি খাতের মধ্যে সরাসরি সরকার নিয়েছে ৮০ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার, এবং বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকারি ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নেওয়া ঋণ ১২ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার।
বেসরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণে অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকে বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে ঋণ কমলেও শেষ প্রান্তিকে তা আবার ২০ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। বেসরকারি খাতের স্বল্পমেয়াদি ঋণ ১০ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে বাণিজ্যিক ঋণ ৬ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলার। দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ৯ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ডলার–সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য বহুজাতিক সংস্থা থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ঋণ নেওয়া হয়েছিল। এসব প্রকল্প থেকে বৈদেশিক মুদ্রা প্রাপ্তি কম হওয়ায় ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়েছে।
চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জুলাই–জানুয়ারিতে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান এসেছে ২৬৪ কোটি ১৬ লাখ ডলার, তবে একই সময়ে পরিশোধ করতে হয়েছে ২৬৭ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। অতীত অর্থবছরেও ৪০০ কোটি ডলারের বেশি ঋণ পরিশোধের চাপ ছিল।
২০২২ সালে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ডলারের বিনিময় হার ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২৩ টাকায় পৌঁছায়। এতে দেশে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পায় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ে। তখন সরকারের পদক্ষেপে আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও বৈদেশিক ঋণ বৃদ্ধি করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রিজার্ভ পতন রোধে সফল হয় এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল হয়।
২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বৈদেশিক ঋণ ছিল ২০ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার, যা ২০০৮ সালে বেড়ে ২২ দশমিক ৭৯ বিলিয়নে পৌঁছায়। এরপর ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ঋণ ১০৪ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। অন্তর্বর্তী সরকার ডলার–সংকট মোকাবিলায় ঋণ নিলে ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে তা ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।
বৈদেশিক ঋণের এই বৃদ্ধির ফলে দেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয়ের মাধ্যমে ঋণ শোধের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।