খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
পটুয়াখালীর বদরপুর ইউনিয়নসহ জেলার ৩৫টি গ্রামে আজ শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) স্থানীয়দের ঐতিহ্যগত প্রথা অনুযায়ী ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে মিল রেখে বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপনের এক দিন পূর্বেই এই অঞ্চলের প্রায় ১০০ পরিবার এবং আনুমানিক ২৫ হাজার মানুষ ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের বদরপুর দরবার শরীফে সকাল ৯টায় ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন দরবার শরীফ মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মো. শফিকুল আলম গনি। তিনি হাদিস ও কোরআনের আলোকে উল্লেখ করেন, যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা মাত্র মুসলমানরা ঈদ উদযাপন করতে পারেন। তার কথায়, “আমরা ১৯২৮ সাল থেকে প্রতিবছর সহীহভাবে চাঁদ দেখা মাত্র ঈদ উদযাপন করে আসছি। আজকের সালাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করেছি।”
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এ অঞ্চলের মানুষ পৃথিবীর যেকোনো স্থানে ঈদের চাঁদ দেখা মাত্র ঈদ উদযাপন করেন এবং রোজা রাখেন এক দিন আগে। শুধু ঈদুল ফিতর নয়, এই প্রথা অনুসারে ঈদুল আযহাও এক দিন আগে পালন করা হয়।
ঈদের জামাতে উপস্থিত ছিলেন আব্দুর রহমান, যিনি বলেন, “আমাদের পরিবার প্রায় ১০০ বছর ধরে এই নিয়মে ঈদ পালন করে আসছে। আজও সবার জন্য সেমাই ও পায়েস রান্না করেছি। বন্ধু-বান্ধবরা আগ্রহ নিয়ে আমাদের বাড়িতে আসেন।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুস সোবাহান বলেন, “আমাদের পীরসাহেবের নির্দেশক্রমে আমরা ঈদ পালন করি। একদিন আগে রোজা রাখা এবং আগাম ঈদ উদযাপন আমাদের প্রথাগত নিয়ম।” জানা গেছে, আগাম ঈদ উদযাপনকারীরা হানিফি মাজহাব ও কাদেরিয়া তরিকার অনুসারী।
নিচের টেবিলে পটুয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত গ্রামের নাম উল্লেখ করা হলো:
| উপজেলা | গ্রাম/মহল্লা |
|---|---|
| সদর | বদরপুর, ছোটবিঘাই |
| গলাচিপা | পশুরী বুনিয়া, সেনের হাওলা, কানকুনি পাড়া, মৌডুবি, নিজ হাওলা |
| বাউফল | রাজনগর, বগা, ধাউরাভাঙ্গা, মদনপুরা, সুরদি, চন্দ্রপাড়া, দ্বিপাশা, শাপলা খালী, আমিরাবাদ, কনকদিয়া |
| কলাপাড়া | ইটবাড়ীয়া, নাঈয়া পট্টি, টিয়াখালী, তেগাছিয়া, দক্ষিণ দেবপুর |
স্থানীয়দের মতে, এই আগাম ঈদ উদযাপনের প্রথা তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্যের অংশ। তারা বিশ্বাস করেন, চাঁদ দেখা মাত্র ঈদ পালন করা মুসলমানদের মধ্যে একতা ও ঐক্য বজায় রাখে।
আজকের এই উৎসবের মাধ্যমে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ একত্র হয়ে আনন্দ, সামাজিক বন্ধন ও ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতিফলন দেখিয়েছেন। বিশেষ করে বদরপুর দরবার শরীফ মসজিদে ঈদের নামাজের আয়োজন স্থানীয়দের মধ্যে সৌহার্দ্য ও একতার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।
এই প্রথাগত ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজন প্রমাণ করে, পটুয়াখালীর মানুষ তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সামাজিক ঐতিহ্যকে জীবন্ত রাখার জন্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম চেষ্টা করে চলেছেন।