বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি নতুন গভর্নর নিয়োগের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।
সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদকে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আজই নতুন গভর্নরের নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার কথা।
ড. আহসান মনসুর ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন। তাঁর সময়কালে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং ব্র্যাক ব্যাংকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি পিপিপি প্রকল্প নীতিমালা তৈরিতে সরকারের পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেছেন।
ড. আহসান মনসুরের শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবন
ড. মনসুরের শিক্ষাজীবন ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হলো:
| শাখা | বিবরণ |
|---|---|
| প্রাথমিক শিক্ষা | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক হিসেবে পেশাজীবন শুরু |
| উচ্চ শিক্ষা | কানাডার ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর; ওয়েস্টার্ন অন্টারিও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি |
| আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল | ১৯৮১ সালে পিএইচডি চলাকালীন যোগদান; ফিসকাল অ্যাফেয়ার্স ও পলিসি রিভিউ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগে কাজ |
| মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়া | ১৯৯৬–২০০৭ সাল পর্যন্ত আইএমএফের মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়া বিভাগের দায়িত্ব পালন |
| সরকারি পরামর্শক | ১৯৮৯ সালে সাবেক অর্থমন্ত্রী ওয়াহিদুল হকের অর্থ উপদেষ্টা; ১৯৯১ সালে ভ্যাট প্রবর্তনে অবদান |
ড. আহসান মনসুরের আইএমএফে দীর্ঘ কর্মজীবনের সময় মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্য আমেরিকার দেশগুলিতে তিনি নীতি ও অর্থনৈতিক পরামর্শ প্রদান করেছেন। তার অভিজ্ঞতা ও বিশ্লেষণমূলক দক্ষতা বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
নতুন গভর্নরের নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় শুরু হবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিবর্তন দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয় দ্রুতগতিতে নতুন গভর্নরের অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ করার চেষ্টা করছে, যাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি ও কর্মকাণ্ডে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে।
এই পরিবর্তন ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও বৈদেশিক আর্থিক নীতি প্রণয়নে নতুন দিকনির্দেশনার সূচনা হিসেবে ধরা হচ্ছে।