খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে পৌষ ১৪৩২ | ১৮ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশ ব্যাংক এবার ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছে। কোনো ব্যাংক সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত—এ কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি সতর্ক করে বলেন, “আমানতকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করতে যেকোনো ধরনের অনিয়ম, দায়িত্বহীনতা বা অব্যবস্থাপনা আর কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। এটি আমাদের সীমারেখা।”
বৃহস্পতিবার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ব্যাংকিং খাত বিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর বলেন, দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থা ও শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সক্রিয় ও আপসহীন ভূমিকা নিতে প্রস্তুত। প্রয়োজনে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়াতেও কোনও দ্বিধা থাকবে না।
ড. মনসুর জানান, ২০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি তদন্ত করবে। এসব ঋণের অনুমোদন, ব্যবস্থাপনা ও তদারকিতে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্বল সুশাসন বা স্বার্থের সংঘাত পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, “কোনো ব্যাংকের পতনের দায় শুধু মালিকদের উপর চাপানো যাবে না। ঋণ অনুমোদনকারী কর্মকর্তা, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ও বাস্তবায়নকারী সবাই সমানভাবে দায়বদ্ধ। উপর থেকে নিচ পর্যন্ত জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।”
সম্প্রতি একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর বিষয়ে আমানতকারীদের উদ্বেগও স্বাভাবিক—এ বিষয়ে গভর্নর আশ্বস্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য প্রাথমিকভাবে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। এর লক্ষ্য হলো সাধারণ গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা পুনঃস্থাপন।
অর্থনৈতিক পরিবেশ নিয়েও গভর্নর আশাবাদী। তিনি বলেন, বৈদেশিক লেনদেনের উন্নতি, রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিকতা এবং রপ্তানি আয়ের স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির কারণে জাতীয় অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। যদি এই ধারা বজায় থাকে, বছরের শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪-৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
ড. মনসুর যোগ করেন, দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং অর্থনীতির ভিত মজবুত করতে ব্যাংক খাতের সংস্কার অপরিহার্য। আমানতকারীর সুরক্ষা, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা হবে ভবিষ্যতের সব নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি।
সেমিনারে উপস্থিত ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা গভর্নরের এই অবস্থানকে সময়োপযোগী ও দৃঢ় পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছেন। তাঁদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনোভাব ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং জনআস্থা পুনঃস্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।