বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ মে ২০২৫
পটুয়াখালীর বাউফলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জেলা কার্যালয় ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে আমন্ত্রণ না পেয়ে আয়োজকদের প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আমিনুল ইসলাম। ক্ষোভের এক পর্যায়ে আয়োজককে গ্রেপ্তারের হুমকি দেন তিনি।
এই ঘটনা ঘটে সোমবার (১৯ মে) বাউফল গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনার সময়।
বাউফল উপজেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের বাউফল উপজেলা শাখা কমিটির সভাপতি ও দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি এমরান হাসান সোহেল জানান, এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) আমন্ত্রণ জানানোর জন্য গত বৃহস্পতিবার (১৫ মে) তাঁর কার্যালয়ে প্রথম যাওয়া হয়। কিন্তু তিনি অফিসে ছিলেন না। এরপর গত শনিবার (১৭ মে) ও রবিবার (১৮ মে) একইভাবে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য প্রতিরোধ কমিটির সদস্যরা তার কার্যালয়ে যায় কিন্তু তাঁকে পাওয়া যায় নি। ওই তিনদিনই তাঁকে ফোন করলেও তিনি ফোন কল রিসিভ করেননি।
সর্বশেষ রবিবার সন্ধ্যার পর তাঁকে ফোন দিলে তিনি ফোন কেটে দেন। বিষয়টি বললে হঠাৎ করেই উত্তেজিত হয়ে যান তিনি। এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা একটা অ্যারেঞ্জমেন্ট করতেছেন ইউএনও জানে না আপনারা কীসের অ্যারেঞ্জমেন্ট করছেন, আশ্চার্য ব্যাপার! ইউএনওকে অবহিত না করে আপনাকে এ আয়োজন করার এখতিয়ার কে দিয়েছে?! ’
এ সময় সভাপতি সোহেল বলেন, ‘আপনাকে আমন্ত্রণের জন্য আপনার কমপ্লেক্সে তিনদিন যাওয়া হয়েছে। কিন্তু আপনাকে পাইনি। জবাবে ইউএনও বলেন, ‘উপজেলা কমপ্লেক্সে কে গেছে? কমপ্লেক্সে তো কাউয়া বক থাকে। আপনি আমার বাংলোতে গেলেন না কেন? আমার বাংলো একটা অফিস।’ এমন প্রশ্নের জবাবে সোহেল বলেন, ‘আপনার বাংলোতে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয় না।’
এর জবাবে ইউএনও বলেন, ‘বাংলোতে যখন অ্যালাউ করবো তখন ঢুকবেন।’ এরপর আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনারা প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারি হয়ে মনে করছেন আপনারা রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারি হয়ে গেছেন। আমি আপনার ফোন ধরতে বাধ্য না। আপনি আপনার ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ফোন দিলে আমি ধরবো কেন?’
এ সময় আমি বলি, ‘আপনি ফোনই ধরলেন না, তা হলে ব্যক্তিগত স্বার্থ, নাকি রাষ্ট্রীয় কোন কাজ বুঝলেন কি ভাবে? আপনি একজন কৃষকের ফোনও ধরতেও বাধ্য।’ এরপর ইউএনও আমিনুল আবার বলেন, ‘আমি প্রজাতন্ত্রের এমন চাকর, যে মালিককে শাস্তিও দিতে পারি।’ তখন সভাপতি সোহেল বলেন, ‘ক্ষমতা আছে আপনি দেন শাস্তি।’
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন বলেন, ‘আমার কাছে এ ব্যাপারে কোন তথ্য এখনও আসেনি তথ্য পেলে মন্তব্য করতে পারব।’
খবরওয়ালা/আরডি