খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 24শে মাঘ ১৪৩২ | ৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
প্রখ্যাত বাউলশিল্পী সুনীল কর্মকার আর নেই। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলে সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার প্রয়াণে বাউল ও লোকসংগীতের জগতে এক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।
সুনীল কর্মকার ১৯৫৯ সালের ১৫ জানুয়ারি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানার বান্দনাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র সাত বছর বয়সে তিনি গানের সঙ্গে যুক্ত হন। ছোটবেলা থেকেই ভরাট, আবেগময় কণ্ঠ এবং স্বতন্ত্র ছন্দের মাধ্যমে যেকোনো আসর মাতিয়ে তুলতে পারতেন। শুধু কণ্ঠই নয়, তিনি বেহালা, দোতারা, তবলা ও হারমোনিয়াম— একাধিক বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারদর্শী ছিলেন।
তার সংগীত জীবন শুরু হয় বিখ্যাত বাউলশিল্পী ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর গান শোনার মধ্য দিয়ে। এভাবে তিনি গানের জগতে প্রবেশ করেন এবং অনেকগুলো গানে সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন। পাশাপাশি নিজেও প্রায় দুই শতাধিক গান রচনা করেছেন, যা গ্রামবাংলার আধ্যাত্মিক ও মানবিক দর্শনকে জীবন্ত রাখে।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় বাউল সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “সুনীল কর্মকার দীর্ঘকাল ধরে বাউল ও লোকসংগীতের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে আধ্যাত্মিক বাণী পৌঁছে দিয়েছেন। তার কণ্ঠের আবেগ, সুরের ছন্দ ও জীবনদর্শনের বার্তা শ্রোতাদের মুগ্ধ করত।”
সুনীল কর্মকার শুধু একজন গায়ক ছিলেন না, তিনি গ্রামবাংলার লোকজ ঐতিহ্যের ধারক ছিলেন। একতারা ও দোতারার ছন্দে তার কণ্ঠের বিশেষ আবেদন শ্রোতাদের মন ছুঁয়ে যেত। তার গানে মানবপ্রেম, আধ্যাত্মিকতা এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভক্তি প্রধান বিষয় ছিল।
কেন্দুয়া জালাল পরিষদের সদস্য আয়েশ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, “বাউল সুনীল কর্মকার জালাল ভাবশিষ্য এবং কালজয়ী বাউলশিল্পী ছিলেন। তার শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। কেন্দুয়া তথা নেত্রকোনায় তার মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমেছে।”
নিম্নে তার সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত ও সংগীতজীবনের তথ্য টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নাম | সুনীল কর্মকার |
| জন্ম | ১৫ জানুয়ারি ১৯৫৯, বান্দনাল, কেন্দুয়া, নেত্রকোনা |
| মৃত্যু | ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল |
| বয়স | ৬৭ বছর |
| পরিবার | স্ত্রী, দুই ছেলে |
| শিল্পধারা | বাউল ও লোকসংগীত |
| বাদ্যযন্ত্র দক্ষতা | একতারা, দোতারা, বেহালা, তবলা, হারমোনিয়াম |
| রচিত গান | প্রায় ২০০+ গান |
| বিশেষতা | আধ্যাত্মিক ও মানবিক বার্তা, গ্রামবাংলার লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণ |
সুনীল কর্মকারের প্রয়াণ বাউলসংগীত ও গ্রামবাংলার সাংস্কৃতিক জগতে একটি অবিস্মরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। তার গানের মাধ্যমে তিনি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিলেন, এবং তার সুর, কণ্ঠ ও বাউলভাব আগামী প্রজন্মের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।