খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ২৪ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাগেরহাটে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মারধরে সোহাগ সরদার (২৭) নামে যুবদলের এক নেতার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৩ জুলাই) রাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
সোহাগ সরদার চিতলমারী উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং সন্তোষপুর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য ছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে তিনি পারিবারিকভাবে বাগেরহাট সদর উপজেলার আদিখালী গ্রামের দীলু মাঝির মেয়ে ছনিয়া আক্তারকে বিয়ে করেন।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সোহাগ শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেখানেই তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং মুখে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনার পর থেকে তাঁর স্ত্রী ছনিয়া আক্তার, শ্বশুর দীলু মাঝি ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে নিহতের স্বজনেরা রজো পাইক নামে এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ জানায়, রজো পাইক আদিখালী গ্রামের ইনছান পাইকের ছেলে এবং তাঁর ছনিয়া আক্তারের মায়ের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
নিহতের বোন রেখা বেগম জানান, বিয়ের পর থেকেই সোহাগের সঙ্গে স্ত্রীর সম্পর্ক ভালো ছিল না। এর আগেও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর ভাইকে মারধর করেছিল, তখনও হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। এবার নির্যাতন করে তাঁর প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “আমরা ভাইয়ের হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এ বিষয়ে বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ-উল-হাসান জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং একজনকে আটক করা হয়েছে। এটি হত্যা না আত্মহত্যা, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।
খবরওয়ালা/শরিফ