খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 11শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ২৬ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রবীন্দ্রসঙ্গীতের এক অনন্য ও উজ্জ্বল নাম অদিতি মহসিন। সুমধুর কণ্ঠের অধিকারিণী এই শিল্পী শুধু গান গেয়ে যান না—তাঁর গানে প্রাণ পায় আবেগ, বেদনা, প্রেম ও চেতনার গভীরতম সুর।
তিনি সেই কণ্ঠশিল্পী, যিনি রবীন্দ্রনাথের সুরকে নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে পৌঁছে দিতে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন।
২৫ জুলাই ঢাকায় এক প্রগতিশীল ও সংস্কৃতিমনস্ক পরিবারে তাঁর জন্ম। সংগীতচর্চার শুরু মায়ের উৎসাহে। পড়াশোনা করেন শহীদ আনোয়ার গার্লস কলেজে। পরে ভর্তি হন বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে (বাফা), যেখানে রবীন্দ্রসঙ্গীতে ডিপ্লোমা অর্জনের পর প্রখ্যাত শিল্পী সাদি মোহাম্মদের কাছে প্রশিক্ষণ নেন।
১৯৯২ সালে ভারত সরকারের ‘পাণ্ডিত্য পুরস্কার’ পেয়ে গমন করেন বিশ্বভারতী, শান্তিনিকেতনে। সেখানে বিশ্ববরেণ্য রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নীলিমা সেনের সান্নিধ্যে তাঁর সংগীতসাধনা আরও সমৃদ্ধ হয়। বিশ্বভারতী থেকে তিনি সঙ্গীতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর—উভয় পর্যায়ে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন।
দুই বাংলার শ্রোতামহলে অদিতি মহসিনের নাম আজ পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক। তাঁর একক ও যৌথ অ্যালবামগুলো শ্রোতাদের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছে। বিশেষ করে তাঁর কণ্ঠের স্বকীয়তা, অনুভবের গভীরতা এবং রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রতি নিখাদ নিষ্ঠা তাঁকে এনে দিয়েছে বিশেষ এক মর্যাদা।
বর্তমানে অদিতি মহসিন জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, ঢাকা সিটি কমিটির সম্পাদক এবং বাংলাদেশ রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থার একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
সঙ্গীতে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন ‘দেবব্রত স্মৃতি পুরস্কার’, ‘অনন্যা শীর্ষ দশ’, ‘সিটিসেল-চ্যানেল আই সঙ্গীত পুরস্কারসহ বহু সম্মাননা। সংগীতে তাঁর নিরন্তর পথচলা ইতিমধ্যে দুই দশক অতিক্রম করেছে।
এই বিশেষ দিনে শিল্পী অদিতি মহসিনকে জানাই হৃদয়ভরা শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা। আপনার সুরের ধারা অনন্তকাল প্রবাহিত হোক।
খবরওয়ালা/আশ