চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় এক গুরুতর ও নিন্দনীয় ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়নের এক বাবার (৩৭) বিরুদ্ধে তার ১৫ বছর বয়সী কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে। অভিযোগ অনুসারে, ভুক্তভোগী কিশোরী বর্তমানে প্রায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি মাদরাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তার মেয়েকে শারীরিক নির্যাতনের শিকার করে আসছিলেন। সম্প্রতি কিশোরীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন লক্ষ্য করলে তার মা তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের ডাক্তারি পরীক্ষায় কিশোরীর অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কিশোরীর মা ও বাবা মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়। ঘটনার লজ্জা ও আতঙ্কে কিশোরীকে গর্ভপাত করানোর উদ্দেশ্যে মা এক সপ্তাহ আগে তাকে পাশের উপজেলায় নানাবাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু বিষয়টি স্থানীয়ভাবে প্রকাশিত হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় গণ্যমান্যরা ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাপ দেন। তারা হলেন:
| নাম | পদবী / পরিচিতি | ভূমিকা |
|---|---|---|
| মোশাররফ হোসেন | স্থানীয় ইউপি সদস্য | কিশোরীর মামার বাড়ির পরিচিত |
| খোরশেদ আলম | ওয়ার্ড বিএনপি সেক্রেটারি | ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত |
| সাখাওয়াত হোসেন | ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি | স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা |
স্থানীয়রা অভিযুক্তের বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং পুলিশের কাছে বিষয়টি জানান।
শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “স্থানীয়দের মাধ্যমে ঘটনা জানতে পেরে আমরা কিশোরীর বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়েছি। বাড়ি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে, নানাবাড়িতেও কাউকে পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেনি।”
ঘটনার সময়রেখা
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ৭ দিন আগে | কিশোরীকে গর্ভপাত করানোর উদ্দেশ্যে নানাবাড়িতে নেওয়া হয় |
| সম্প্রতি | কিশোরীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন লক্ষ্য করে মা হাসপাতাল নিয়ে যান |
| ৩ মার্চ, মঙ্গলবার | পুলিশ কিশোরীর বাড়িতে পাঠানো হয়; স্থানীয়রা অভিযুক্তের বাড়িতে তালা ঝুলায় |
স্থানীয়রা বলছেন, এটি শুধু একটি পরিবারের সমস্যা নয়, বরং সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। তারা দাবী করছেন, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং ভুক্তভোগী কিশোরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
এ ঘটনায় প্রশাসন, স্থানীয় গণ্যমান্য এবং এলাকাবাসী সবাই একযোগে দায়িত্ব নিয়ে কিশোরীর সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সচেষ্ট।