খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 11শে আষাঢ় ১৪৩২ | ২৫ই জুন ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আবারও জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। এর আগেও গত মাসে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সভায় তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেছিলেন, “দল হিসেবে আমরা কখনোই দাবি করি না যে আমরা ভুলের ঊর্ধ্বে। আমাদের প্রতিটি কর্মী বা দলের কারণে যারা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের সবার কাছে আমরা বিনা শর্তে ক্ষমা চাই। আপনারা আমাদের ক্ষমা করে দেবেন। আমাদের কোনো আচরণে বা কার্যক্রমে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে, আমরা তার জন্যও আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।
সম্প্রতি একটি টকশো অনুষ্ঠানে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেছেন, শুধু একাত্তর নয়, ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমাদের দ্বারা যত মানুষ কষ্ট পেয়েছেন, কেউ যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন সেই সকল মানুষের কাছে মানুষগুলো তাদের সকলের কাছে আমি বিনা শর্তে ক্ষমা চেয়েছি।
অনুষ্ঠানে তাকে প্রশ্ন করা হয়, ‘যুদ্ধাপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম খালাস পাওয়ার পর আপনি একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন- জামায়াতে ইসলামী বা তার কোন নেতাকর্মীর মাধ্যমে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে তার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাই। এই ক্ষমা প্রার্থনায় কি মুক্তিযুদ্ধের সময়টাও আছে কিনা সেটা সেদিন আপনি স্পষ্ট করেননি।
আজকে এটা স্পষ্ট করবেন কি? অনেকেই প্রশ্ন করছেন যে জামাতের আমির ক্ষমা কিসের জন্য চাইলেন?’জবাবে জামায়াতের আমির বলেন, শুধু একাত্তর নয়, ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমাদের দ্বারা যত মানুষ কষ্ট পেয়েছেন, কেউ যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন সেই সকল মানুষের কাছে মানুষগুলো তাদের সকলের কাছে আমি বিনা শর্তে ক্ষমা চেয়েছি।
ড. শফিকুর রহমান বলেন, ব্যক্তি হিসেবে মানুষ যেমন ভুল করতে পারে, মানুষের সমষ্টি একটি দলেরও ভুল সিদ্ধান্ত থাকতে পারে। কোনটা ভুল কোনটা সঠিক সেটা ইতিহাস নির্ধারণ করবে। আজকে যেটাকে ভুল বলা হচ্ছে কাল সেটাই হয়তো সবচেয়ে বড় সঠিক হিসেবে প্রমাণিত হবে।
তিনি বলেন, আমরা আদর্শবাদী একটা দল। আমরা বিশ্বাস করি আমরা মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নই। আমাদের দ্বারা, আমাদের সহকর্মীদের দ্বারা মানুষ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কষ্ট পেতে পারে, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আমি সবকিছুর জন্য কোন শর্ত আরোপ না করেই মাফ চেয়েছি।
মাফ চাওয়ার মধ্যে কোন পরাজয় নেই, লজ্জা নেই। তিনি বলেন, আমার মানবিক মূল্যবোধ এবং দায়িত্বের জায়গা থেকে মাফ চেয়েছি।
তবে অনেকেই মনে করছেন টকশোতে জামায়াতের আমীর ৪৭ থেকে আজ পর্যন্ত উল্লেখ করে যেভাবে ক্ষমা চেয়েছেন এধরণের ক্ষমা শুধু জামায়াতের আমীর নয় যেকােন ব্যক্তিই চাইতে পারেন। কিন্তু এই ক্ষমা চাওয়াকে নির্দিষ্ট কবরে মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের বিতর্কিত ভুমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়া বলা যায় না।
খবরওয়ালা/এমএজেড