খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 1শে আশ্বিন ১৪৩২ | ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার নাকোল রাইচরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিএনপির ইউনিয়ন সভাপতির নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুনীর হোসেন।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। অঅভিযোগ, এতে বরখাস্ত প্রধান শিক্ষক শেখ আব্দুল মান্নানের অনুসারী, শিক্ষক প্রতিনিধি, বিএনপি-যুবদলের নেতা, স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাং সদস্যরা জড়িত ছিলেন। ঘটনার পর বিদ্যালয় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হামলাকারীরা সংঘবদ্ধভাবে ‘মব’ তৈরি করে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ঢুকে তাকে আক্রমণ করে। হামলাকারীদের মধ্যে ছিলেন বরখাস্ত প্রধান শিক্ষক শেখ আব্দুল মান্নানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী শিক্ষক প্রতিনিধি কামরুজ্জামান সাইমন, মিরান হত্যা মামলার পলাতক আসামি ও নাকোল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহব্বত, ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি রবিউল ইসলাম, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সানরাইজ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম, যুবলীগ কর্মী কুতুবউদ্দিন লাভলু, এবং কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাং সদস্য।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুবর্ণা জামান ও লিপি বেগম অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা শুধু প্রধান শিক্ষক মুনীর হোসেনের ওপরই হামলা চালায়নি, বরং দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরও লক্ষ্য করে আক্রমণ করেছে, যার কারণে পরীক্ষার পরিবেশ পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়। তারা দাবি করেন, শিক্ষার্থীদেরও পরিকল্পিতভাবে উসকানি দেওয়া হয়েছিল।
হামলার সময় নাকোল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই মালেক ও আরও দুই পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং আহত প্রধান শিক্ষককে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। তবে দুই শতাধিক হামলাকারীর সঙ্গে পুলিশের লড়াই সম্ভব হয়নি। অফিসকক্ষ ভাঙচুর করে ল্যাপটপ, ক্রীড়া সামগ্রী ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও নষ্ট করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার পর বরখাস্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান জোর করে প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসেন এবং বিদ্যালয়ে নিজের দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালান।
বিদ্যালয়ের সভাপতি শিপন মির্জা ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘বিদ্যালয়ে চলমান চার কোটি টাকার দুর্নীতির তদন্ত ঠেকাতেই এই হামলা হয়েছে। বরখাস্ত প্রধান শিক্ষক ও তার রাজনৈতিক মদদপুষ্ট গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস চালিয়েছে। এর দায় কোনোভাবেই এড়ানো যাবে না।’
স্থানীয় বাসিন্দা মিল্টন বলেন, ‘আমি নিজের চোখে দেখেছি, দুই শতাধিক লোক প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ঢুকে তার ওপর হামলা চালিয়েছে। পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা কিছুই করতে পারেনি। এটি সাধারণ মারামারি নয়, এটি ছিল হত্যাচেষ্টা।’
হামলায় গুরুতর আহত প্রধান শিক্ষক মুনীর হোসেন মাগুরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিএনপির নেতারা হামলা চালিয়েছে। প্রথমে গালাগালি করা হয়, পরে চেয়ার দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। মাথা ফেটে রক্ত বের হলে পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে।’ তিনি আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে ছিলেন বরখাস্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রবিউল ইসলাম।
অন্যদিকে, নাকোল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহব্বত দাবি করেন, ‘শিক্ষার্থীরাই পরীক্ষার হলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল। আমরা কেবল ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম, হামলায় জড়িত নই।’
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার পর বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুলাই মাসে এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান প্রধান শিক্ষক এবং প্রাক্তন সভাপতির বিরুদ্ধে প্রায় চার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে আগস্টে প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তের পর থেকেই তার অনুসারীরা বিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে নানা ধরনের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।
খবরওয়ালা/এন