খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ২৬ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় ৪ অক্টোবরের এক সঙ্গীত অনুষ্ঠানে বাউল শিল্পী আবুল সরকার ইসলাম ও আল্লাহকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করলে তা সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। দেশজুড়ে ধর্মপ্রাণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন তার দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেন। এ ঘটনার পর ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল বৃহস্পতিবার ভোরে মাদারীপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলছে।
আবুল সরকারের বিরুদ্ধে জনমতের চাপ যখন চরমে, তখনই বাউল জগত আরও এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। নারী বাউল শিল্পী হাসিনা সরকার একটি ভিডিও বার্তায় অভিযোগ করেন, পুরুষ বাউলদের অনেকেই নারী শিল্পীদের প্রোগ্রামে নেওয়ার আগে “অমানবিক ও অশোভন” শর্ত চাপিয়ে দেন। তার দাবি— নারী বাউলরা যদি তাদের কথিত ‘চাহিদা’ পূরণ না করেন, তবে তাদের কোনো অনুষ্ঠানে ডাকাই হয় না।
ভিডিওতে হাসিনা সরকার বলেন, “আমি বহুবার শুনেছি— প্রোগ্রামে নিতে হলে ডাকে সাড়া দিতে হবে। যখন বলেছি— কী করতে হবে? তখন তারা ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় বুঝিয়েছে যে কথাটা না কি ‘খুলে’ বলতে হবে। আমি তখনই বলেছি— আমার ইজ্জত বিক্রি করে গান গাওয়ার প্রয়োজন নেই।”
তিনি আরও জানান, এই আচরণ শুধু তার সঙ্গেই হয়নি; বরং বহু নারী বাউলই একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান। তবে তিনি কোনও ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেননি, কারণ এ নিয়ে বললে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেন।
হাসিনা সরকার বলেন, “তারা বলে— ‘আমাদের কথা শুনবি, তোকে বায়না দেব।’ অর্থাৎ বিছানায় যেতে হবে, তবেই গানের সুযোগ মিলবে। আমি বাউল জগতের মানুষ হিসেবেই বলছি— এখন পরিস্থিতি অনেক নোংরা হয়ে গেছে। আমাকে কে ডাকল না ডাকল— তাতে আমার কিছু যায়-আসে না।”
তার এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে আলোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই মনে করছেন, আবুল সরকারের ইস্যুর পাশাপাশি বাউল সংগীতে নারী শিল্পীরা দীর্ঘদিন ধরে যে বৈষম্য ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তা এবার প্রকাশ্যে এল। সংগীতবিশারদ ও সমাজকর্মীরা বলছেন, এই ঘটনাগুলো শিল্প ও সংস্কৃতির নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।