খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে ভাদ্র ১৪৩২ | ১৯ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বিড়ালরা এমন সব অদ্ভুত কাজ করে যা শুধু বিড়ালপ্রেমীরাই ভালো বুঝতে পারেন। যেমন হঠাৎ টেবিল থেকে গ্লাস ফেলে দেওয়া বা নিস্তেজ ইঁদুর এনে সামনে রাখা ইত্যাদি। এখনো বিজ্ঞানীরা বিড়াল সম্পর্কে সব জানেন না, তবে এতটুকু বোঝা গেছে যে তাদের কিছু আচরণ স্বাভাবিক স্বস্তি প্রকাশ করে, আবার কিছু আচরণ সমস্যার ইঙ্গিতও দেয়। এখানে তুলে ধরা হলো বিড়ালের সেইসব গোপন আচরণ, যা দিয়ে তারা আপনাকে কিছু বোঝাতে চায়।
বিড়াল যেভাবে মনোযোগ দাবি করে
আপনি বই পড়ছেন বা ল্যাপটপে কাজ করছেন, ঠিক তখনই হঠাৎ বিড়াল এসে আপনার সামনে শুয়ে পড়বে। এভাবে তারা আপনাকে ইঙ্গিত দেয়—ওই কাজে মন না দিয়ে তাদের আদর করুন।
কেন বিড়াল ডাকে আসে না
বিড়ালরা বুদ্ধিমান হলেও একরোখা স্বভাবের। তাদের নাম ধরে ডাকলে কাছে আসে, তবে ইচ্ছে না করলে ডাকলেও আসবে না। কুকুরের মতো মালিকের কাছে দৌড়ে না এসে, তারা যখন ইচ্ছে তখনই আপনাকে অভিবাদন জানাবে।
কীভাবে বিড়াল স্বস্তি খুঁজে পায়
শিশু অবস্থায় বিড়ালছানা মায়ের দুধ খাওয়ার সময় থাবা দিয়ে চাপ দেয়। সেই অভ্যাস বড় হওয়ার পরও থেকে যায়। প্রাপ্তবয়স্ক বিড়াল আপনার নরম শরীরের অংশে থাবা দিয়ে চাপ দিলে বুঝবেন, সে সুখী বা মানসিক চাপ মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে।
কেন বিড়াল আপনাকে শুঁকে দেখে
বিড়াল খুব কৌতূহলী। আপনার হাত বা মুখে নাক ঘষে শোঁকার মাধ্যমে তারা নিশ্চিত হয় আপনি পরিচিত। এতে তাদের স্বস্তি ও নিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়।
কেন বিড়াল প্লাস্টিক চিবোয়
খাবার ছাড়া অন্য জিনিস, বিশেষ করে প্লাস্টিক চিবোনো ‘পাইকা’ নামে এক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এটি মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা বা পুষ্টির ঘাটতির কারণে ঘটে। এ অভ্যাস যদি বারবার হয়, পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
বিড়ালের হতাশা প্রকাশ
জানালার বাইরে পাখি দেখলে বিড়াল দাঁতে দাঁত লাগিয়ে ঝটপট আওয়াজ করে। এটি আসলে হতাশার ইঙ্গিত। সে পাখিটিকে ধরতে চায়, কিন্তু জানালার কাঁচ বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অনেক বিশেষজ্ঞ বলেন, শিকারে নামার আগে পেশি উষ্ণ করারও এ এক পদ্ধতি।
যখন বিড়াল আপনাকে লেজ উঁচু করে দেখায়
বিড়াল লেজ উঁচু করে পেছন ফিরিয়ে দাঁড়ালে সেটি অস্বস্তি নয়, বরং আস্থার চিহ্ন। এর মাধ্যমে তারা বুঝিয়ে দেয়—আপনার কাছে তারা নিরাপদ এবং আপনাকে আরও কাছে টানতে চায়।
খেলতে চাইলে বিড়াল যা করে
বিড়াল হঠাৎ পিঠের ওপর শুয়ে গড়াগড়ি খায়। এটি সাধারণত খেলার আমন্ত্রণ, যদিও মাঝে মাঝে তারা এভাবে তাদের গন্ধ ছড়িয়ে জায়গা নিজের বলে দাবি করে।
কেন বিড়াল রাতে ডাকে
বিড়াল রাতেই বেশি সক্রিয় থাকে। শিকারের প্রবৃত্তি থেকে তারা ঘরে ঘুরতে থাকে এবং শিকার না পেলে হতাশ হয়ে ডাকাডাকি করে। দিনে তাদের বেশি খেলালে রাতে ক্লান্ত হয়ে শান্ত থাকবে।
লুকোচুরি খেলতে ভালোবাসা
বাক্স, সিঙ্কের নিচে বা ছোট গর্ত, যে কোনো অচেনা সংকীর্ণ জায়গা বিড়াল পছন্দ করে। এতে তারা নিরাপদ বোধ করে। প্রকৃতিতে হুমকি এড়াতে গুহায় আশ্রয় নেওয়ার প্রবৃত্তি এ অভ্যাসের উৎস।
অস্থিরতার লক্ষণ
হঠাৎ করে ঘরে দৌড়ঝাঁপ শুরু করলে বুঝবেন বিড়ালের জমে থাকা শক্তি খরচ হচ্ছে। নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ দিলে তাদের অস্থিরতা কমে যাবে।
যখন বিড়াল ‘উপহার’ আনে
হঠাৎ পায়ের কাছে মৃত পাখি বা ইঁদুর ফেলে দিলে সেটি আসলে আপনাকে পরিবারের সদস্য হিসেবে মেনে নেওয়ার চিহ্ন। ছোটবেলায় মা যেমন খাবার এনে দিত, তেমনি আপনার জন্য শিকার এনে বিড়াল কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
বিড়ালের স্বস্তির ভঙ্গি
পা ছড়িয়ে পেট উন্মুক্ত করে শুয়ে থাকা বিড়ালের স্বস্তির প্রমাণ। এ অবস্থায় তারা পুরোপুরি অসহায় থাকে, তাই কেবল তখনই এ ভঙ্গি নেয় যখন তারা আপনাকে নিয়ে নির্ভার থাকে।
সমস্যার সতর্কবার্তা
প্রকৃতিতে বিড়াল নিজেদের বিষ্ঠা ঢেকে রাখে শত্রুর গন্ধ শনাক্তকরণ এড়াতে। ঘরের লিটারবক্সেও তারা তাই করে। কিন্তু যদি হঠাৎ করে না ঢাকে, তবে বুঝবেন হয় লিটারবক্সে সমস্যা আছে, নয়তো মানসিক চাপ বা শারীরিক অসুস্থতা আছে।
বিড়ালের অস্থিরতার সংকেত
বিড়াল শুধু চোখ নয়, কান দিয়েও মনের ভাব প্রকাশ করে। কান সামনে থাকলে সে খুশি, আর পেছনে বা চেপে থাকলে বুঝবেন সে রাগান্বিত বা প্রতিরক্ষামূলক ভঙ্গিতে আছে।
কেন বিড়াল আপনার পায়ে ঝাঁপায়
হঠাৎ আপনার পায়ে ঝাঁপিয়ে পড়া শত্রুতা নয়, বরং খেলা বা শিকারের অনুশীলন। যদি এটি আপনার অপছন্দ হয়, তাকে খেলনা দিন—তাহলেই আপনার পা বাঁচবে।
খবরওয়ালা/এমএজেড