খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিদায়ের দিনেই তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন ট্রাইব্যুনালের সিনিয়র প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ। সুলতান মাহমুদের অভিযোগ, চিফ প্রসিকিউটরের পদকে কেন্দ্র করে তাজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন একটি সিন্ডিকেট ‘টাকা আয়’ এবং প্রশাসনিক সুবিধা অর্জনের কাজে লিপ্ত ছিল।
সোমবার ফেসবুকে কাজী মোস্তাফিজুর রহমান আহাদ নামের এক আইডি থেকে পোস্ট করা “ট্রাইব্যুনালে সেটলিং বাণিজ্য ও রাজসাক্ষী নাটক: কেন সরতে হচ্ছে তাজুল ইসলামকে?” শিরোনামের পোস্টে সুলতান মাহমুদ দুটি মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি তাজুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন।
সুলতান মাহমুদ প্রশ্ন তুলেছেন পুলিশ কর্মকর্তাদের ‘অ্যাপ্রুভার’ বা রাজসাক্ষী করার পদ্ধতি নিয়েও। তিনি উল্লেখ করেছেন, রংপুরে শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের মামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে কেন অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং চানখাঁরপুল এলাকায় গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার ভিডিও থাকা সত্ত্বেও একজনকে আসামি না করে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| আশুলিয়া লাশ পোড়ানো মামলা | এসআই আবজালুল হকের স্ত্রী ভারী ব্যাগ নিয়ে প্রসিকিউটর তামীমের কক্ষে প্রবেশ করেন; তাজুল ইসলাম কোনো ব্যবস্থা নেননি |
| রাজসাক্ষীকরণ | আফজালকেও রাজসাক্ষী করে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে; এসআই আশরাফুল গুলি করার নির্দেশনা দেওয়ার ভিডিও থাকা সত্ত্বেও আসামি করা হয়নি |
| সিন্ডিকেট অভিযোগ | তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে ৩–৪ জনের একটি চক্র চিফ প্রসিকিউটরের পদকে টাকা কামানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে |
| রংপুরের মামলা | এসি ইমরানকে অব্যাহতি, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে রাজসাক্ষী করা হয়েছে |
প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ জানান, গত বছরের নভেম্বরের শেষের দিকে আশুলিয়ার মামলায় অভিযুক্ত এসআই আবজালুল হকের স্ত্রী তাঁর কক্ষে প্রবেশ করেন। বিষয়টি দেখতে গিয়ে তিনি তাজুল ইসলামের কক্ষে যান। তাজুল ইসলাম পরিস্থিতি অবহেলিত করে উল্টো বকাঝকা করেছিলেন। পরবর্তীতে আফজালকেও রাজসাক্ষী করা হয়।
চিফ প্রসিকিউটর পদ থেকে সরানোর পর তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে কেউ যা বলছে, আমরা তা গুরুত্ব দিচ্ছি না। এসব অভিযোগ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত।”
তিনি আরও বলেন, “যদি কোনো সত্য ঘটনা ঘটে, তা আমার কাছে আসবে। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমও অভিযোগগুলো মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
মো. আমিনুল ইসলামকে নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি জানান, বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর এবং প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো বিষয়টি পরে যাচাই করা হবে।