খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে পৌষ ১৪৩২ | ২৩ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বিশ্বখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন ২০২৫ সালের জন্য তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচনে এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বছর কোনো একক ব্যক্তি নয়, বরং একটি সামষ্টিক শক্তিকে সম্মান জানানো হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যেসব নির্মাতা ও পথপ্রদর্শক আধুনিক সভ্যতার গতিপথ বদলে দিয়েছেন, তাদেরই অভিহিত করা হয়েছে ‘এআই স্থপতি’ হিসেবে।
টাইমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালই সেই মোড় ঘোরানো বছর, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের জীবন, কাজ ও চিন্তার ধারাকে স্থায়ীভাবে বদলে দিয়েছে। একসময় যে প্রযুক্তি ভবিষ্যতের সম্ভাবনা বলে বিবেচিত হতো, তা এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা।
টাইম ম্যাগাজিনের ইতিহাসে এই সিদ্ধান্ত বিরল। সাধারণত রাষ্ট্রনায়ক, বিপ্লবী বা বিনোদন জগতের কোনো তারকাই এই সম্মান পেয়ে থাকেন। কিন্তু এবার সম্পাদকরা মনে করেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব এতটাই বিস্তৃত যে একজন ব্যক্তির মাধ্যমে তা উপস্থাপন করা সম্ভব নয়।
টাইমের সম্পাদক-ইন-চিফ স্যাম জ্যাকবস লিখেছেন, “আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স মানুষের কাজ, চিন্তা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরন আমূল বদলে দিয়েছে। এই পরিবর্তন আর পেছনে ফেরানোর সুযোগ নেই।”
‘এআই স্থপতি’ বলতে বোঝানো হয়েছে সেই প্রযুক্তিবিদ ও উদ্যোক্তাদের, যারা গবেষণাগার ছাড়িয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে দিয়েছেন।
| নাম | প্রতিষ্ঠান | এআই-এ ভূমিকা |
| স্যাম অল্টম্যান | ওপেনএআই | জেনারেটিভ এআই জনপ্রিয়করণ |
| জেনসেন হুয়াং | এনভিডিয়া | এআই চিপ ও হার্ডওয়্যার |
| ডেমিস হাসাবিস | গুগল ডিপমাইন্ড | বৈজ্ঞানিক এআই গবেষণা |
| মার্ক জাকারবার্গ | মেটা | সামাজিক প্ল্যাটফর্মে এআই |
| ইলন মাস্ক | এক্সএআই | উন্নত এআই ও ভবিষ্যৎ ভাবনা |
| ডারিও অ্যামোডেই | এনথ্রোপিক | নিরাপদ ও নৈতিক এআই |
| ফেই-ফেই লি | স্ট্যানফোর্ড | মানবকেন্দ্রিক এআই |
| লিসা সু | এএমডি | উচ্চক্ষমতার কম্পিউটিং |
টাইমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই এখন আর শুধু সফটওয়্যার নয়—এটি একটি বৈশ্বিক অবকাঠামো। ২০২৫ সালে চ্যাটজিপিটি ও অনুরূপ এআই প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারী সংখ্যা ৮০০ মিলিয়নেরও বেশি। চিকিৎসা, গবেষণা, শিক্ষা, সাংবাদিকতা ও সৃজনশীল শিল্পে এআই অভূতপূর্ব গতিতে প্রবেশ করেছে। ফলে মানুষের কাজের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বহুগুণে বেড়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বর্তমানে একটি শিল্প বিপ্লবের ভূমিকা পালন করছে। বিশাল ডেটা সেন্টার, শক্তিশালী চিপ এবং সুপারকম্পিউটিং অবকাঠামো বিশ্ব অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। এনভিডিয়া ও এএমডির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বৈশ্বিক অর্থনীতির কেন্দ্রে অবস্থান করছে। অনেক রাষ্ট্র এআইকে ভবিষ্যৎ ক্ষমতা ও প্রতিযোগিতার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখছে।
এআইয়ের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগও বাড়ছে। ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, ডিপফেক ও ভুয়া তথ্যের বিস্তার, কর্মসংস্থান হ্রাস এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব—সবই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সুস্পষ্ট নীতিমালা ও নৈতিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে আরও জটিলতা তৈরি করতে পারে।
আজ এআই কেবল প্রযুক্তির বিষয় নয়; এটি রাজনীতি ও বিশ্বক্ষমতার প্রতীক। যুক্তরাষ্ট্রসহ বহু দেশ এই খাতে বিপুল বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। টাইমের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই আগামী দিনের ক্ষমতার ভাষা—যার হাতে এ প্রযুক্তি থাকবে, ভবিষ্যৎ নেতৃত্বও তাদের হাতেই যাবে।