খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে কার্তিক ১৪৩২ | ১১ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বিশ্ব ইতিহাসে স্বাধীনতার মহানায়কদের কথা উঠলেই যে ক’জন নেতার নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়, ফিলিস্তিনের জাতীয় নেতা ইয়াসির আরাফাত তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তিনি ছিলেন কেবল ফিলিস্তিনেরই নয়, সমগ্র বিশ্বের নিপীড়িত, বঞ্চিত ও স্বাধীনতাকামী মানুষের মুক্তির প্রতীক।
২৪ আগস্ট ১৯২৯ সালে জন্ম নেওয়া এই নেতা ১১ নভেম্বর ২০০৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন। সময়ের আবর্তনে আজ উনিশ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও প্রতিটি ফিলিস্তিনির হৃদয়ে অমর প্রতিচ্ছবি হিসেবে জ্বলজ্বল করছেন ইয়াসির আরাফাত।
ফিলিস্তিনের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব প্রায় স্বাধীনতার সূচনালগ্ন থেকেই। বাংলাদেশের জনগণ ইয়াসির আরাফাতকে সব সময় মহান বন্ধু হিসেবে শ্রদ্ধার আসনে বসিয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে একাত্ম হয়ে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দাবিকে অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে আসছে।
বাংলাদেশের সকল সরকার—জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান থেকে শুরু করে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, বেগম খালেদা জিয়া, এবং শেখ হাসিনা—সবাই নিজ নিজ সময়ে ফিলিস্তিনের জনগণের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন এবং ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বে স্বাধীন ফিলিস্তিনের সংগ্রামে সমর্থন জানিয়েছেন। স্বাধীন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া ১৩৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ গর্বের সঙ্গে অন্যতম।
ইয়াসির আরাফাত একাধিকবার রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় এসেছেন এবং অসংখ্যবার ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি করেছেন। বিশেষ করে, ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ আমন্ত্রণে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে বর্ণবাদবিরোধী বিশ্বনেতা নেলসন ম্যান্ডেলা ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সুলেমান ডেমিরিলও উপস্থিত ছিলেন।
ফিলিস্তিনের এই অবিসংবাদিত নেতা তাঁর সারাটি জীবন উৎসর্গ করেছিলেন মুক্তির স্বপ্নে বিভোর একটি জাতির জন্য। আজ, যখন গাজা ও পশ্চিম তীরে নিরস্ত্র মানুষ নিপীড়নের শিকার, তখন আরও বেশি করে অনুভূত হয়—নিপীড়িত ফিলিস্তিনে আজ তোমার মতো এক অবিসংবাদী নেতারই বড় প্রয়োজন, ইয়াসির আরাফাত।
শ্রদ্ধাঞ্জলি।
খবরওয়ালা/টিএসএন