খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
বিপিএলের নতুন আসরের নিলাম ঘিরে বিশাল চমক দেখা দিয়েছে। প্রাথমিক তালিকায় থাকা সাত ক্রিকেটার চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ে গেছেন, এবং এই বাদ পড়াকে ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই তাঁদের উপর অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে কি না—সে প্রশ্ন উঠেছে তীব্রভাবে।
বিসিবির সরকারি ব্যাখ্যা: ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত নয়, তবে তাঁদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ পাওয়া গেছে। একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি আট মাস ধরে তদন্ত করে ৯০০-পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দিয়েছে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ইন্টিগ্রিটি ইউনিট চিহ্নিত কয়েকজনের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়। ফলে, লিগের সুরক্ষার স্বার্থে তাঁদের নিলামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
ইফতেখার রহমান বলেন,
“ক্রিকেটাররা বলছেন, প্রমাণ ছাড়া বাদ দেওয়া হয়েছে—এটা ঠিক। কিন্তু একটি জ্যেষ্ঠ বিচারকের নেতৃত্বে তদন্ত হয়েছে। তাঁরা ভিত্তিহীন প্রতিবেদন দেবেন—এটা আমি ভাবি না।”
তিনি আরও যুক্তি দেন—লিগের নৈতিকতা সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিসিবির এখতিয়ার বিস্তৃত।
“কোনো খেলোয়াড়কে নিলামে নিতেই হবে—এমন বাধ্যবাধকতা নেই। বিদেশি ৫০০ জন আবেদন করেছিল, আমরা ২৬০ জন নিয়েছি। একইভাবে স্থানীয়দের ক্ষেত্রেও যাচাই করেছি।”
অভিযোগ উঠেছে, যদি ক্রিকেটাররা অপরাধী না হন, তবে কেন নির্দিষ্টভাবে বিপিএল থেকেই তাদের দূরে রাখা হচ্ছে? বিসিবির মতে, এই সিদ্ধান্ত ‘শুধুমাত্র’ বিপিএলের জন্য। ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁদের অংশগ্রহণে বাধা নেই। কারণ লিগের ব্র্যান্ড, অর্থনৈতিক বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক নজরদারির কারণে বিপিএলকে বাড়তি সতর্কতায় রাখতে হয়।
চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়নি—এনামুল হক, মোসাদ্দেক হোসেন, আলাউদ্দিন বাবু, সানজামুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, নিহাদুজ্জামান ও শফিউল ইসলামকে। বিসিবি তাঁদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি; কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে—‘ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষায় সতর্কতা’।
তবে ক্রিকেট মহলে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—রেড ফ্ল্যাগ মানে কি সম্ভাব্য সন্দেহ? আর সন্দেহের ভিত্তিতে বাদ দেওয়াটা কি ন্যায্য?