খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে মাঘ ১৪৩২ | ৯ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সদ্য অপসারিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও সাফিকুর রহমান এবং তাঁর স্ত্রীসহ চার আসামির বিরুদ্ধে গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। আজ রোববার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রোবেল মিয়া এই রিমান্ড আবেদন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহানের আদালত আগামী মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) আসামিদের উপস্থিতিতে এই আবেদনের ওপর শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন।
১১ বছর বয়সী এক শিশু গৃহকর্মীকে পৈশাচিক নির্যাতনের অভিযোগে গত ১ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগীর বাবা। মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত বছরের জুন মাসে মেয়েটিকে পড়াশোনা ও বিয়ের খরচ বহনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাফিকুর রহমানের উত্তরার বাসায় কাজে দেওয়া হয়েছিল। তবে গত ২ নভেম্বরের পর থেকে পরিবারটি মেয়েটির সঙ্গে তার বাবাকে দেখা করতে দেয়নি।
গত ৩১ জানুয়ারি মেয়েটি অসুস্থ বলে তাকে নিয়ে যেতে বলা হলে তার বাবা বাসায় যান। মেয়েটিকে হস্তান্তরের সময় দেখা যায় তার সারা শরীরে পোড়া ক্ষত ও জখমের চিহ্ন। পরবর্তীতে মেয়েটিকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশুটির বক্তব্য অনুযায়ী, তুচ্ছ কারণে সাফিকুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী তাকে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দিতেন এবং নিয়মিত মারধর করতেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী ও আসামিদের তথ্য:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| প্রধান আসামি | সাফিকুর রহমান (সদ্য সাবেক এমডি, বিমান বাংলাদেশ) |
| অন্যান্য আসামি | বীথি (সাফিকুরের স্ত্রী), রূপালী ও সুফিয়া (অন্য দুই গৃহকর্মী) |
| ভুক্তভোগী | ১১ বছর বয়সী এক শিশু গৃহকর্মী |
| আবেদিত রিমান্ড | ০৭ দিন |
| শুনানির তারিখ | মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) |
| অভিযোগের ধরন | মারধর, গরম খুন্তির ছ্যাঁকা ও পাশবিক নির্যাতন |
আজ মামলার শুনানিকালে ভুক্তভোগী শিশুটি আদালতে উপস্থিত হয়ে বিচারকের খাস কামরায় নিজের ওপর হওয়া অমানবিক নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে জবানবন্দি প্রদান করেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। নির্যাতনে ব্যবহৃত গরম খুন্তি উদ্ধার এবং ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য আসামিদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এছাড়া শিশুটির শরীরের ক্ষতচিহ্ন দেখে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে অন্যান্যভাবেও পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে, যা আসামিরা অবগত আছেন।
উক্ত নির্যাতনের খবর প্রকাশ পাওয়ার পর সরকার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে সাফিকুর রহমানকে বিমানের এমডি পদ থেকে সরিয়ে দেয়। গত ২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে সাফিকুর, তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের দুই সহযোগী গৃহকর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে তাঁরা আদালতের আদেশে কারাগারে রয়েছেন।
মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনাকে অত্যন্ত ন্যক্কারজনক বলে অভিহিত করেছেন। একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বাসায় এ ধরনের শিশু নির্যাতনের ঘটনা সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের চিত্র ফুটিয়ে তোলে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। মামলার বাদী তথা শিশুটির বাবা একজন সাধারণ হোটেল কর্মচারী হওয়ায় প্রভাবশালী মহলের কোনো চাপ যেন মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা হতে না পারে, সে দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।