খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরে বাংলাদেশ দল মাঠের খেলায় অংশ না নিলেও বৈশ্বিক মঞ্চে দেশের উপস্থিতি একেবারে অনুপস্থিত থাকছে না। খেলোয়াড় হিসেবে নয়, বরং ম্যাচ পরিচালনা ও বিশ্লেষণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। আম্পায়ার প্যানেলের পর এবার ধারাভাষ্য প্যানেলেও যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশের পরিচিত মুখ আতহার আলী খান, যা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এক আনন্দের খবর।
আইসিসি পূর্বেই জানিয়েছিল, আম্পায়ার হিসেবে এই বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করবেন শরফুদ্দৌলা ইবনে সৈকত ও গাজী সোহেল। সেই ধারাবাহিকতায় শনিবার আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে ধারাভাষ্যকারদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করে। ওই তালিকায় দেখা যায়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিশ্লেষণে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ও জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকারদের সঙ্গে জায়গা করে নিয়েছেন আতহার আলী খান। ফলে বিশ্বকাপ সম্প্রচারে বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর শোনা যাবে বৈশ্বিক দর্শকের কাছে।
ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর। অংশগ্রহণকারী দল, ভেন্যু ও সময়সূচি নিয়ে আলোচনা যতটা গুরুত্ব পাচ্ছে, ঠিক ততটাই আলোচনায় রয়েছে ধারাভাষ্য প্যানেল। কারণ আধুনিক ক্রিকেটে ধারাভাষ্য শুধু ম্যাচ বর্ণনায় সীমাবদ্ধ নয়; খেলোয়াড়দের কৌশল, মাঠের পরিস্থিতি, পরিসংখ্যান ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরার মাধ্যমে দর্শকের অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করে।
আইসিসির ঘোষিত তালিকায় শীর্ষস্থানীয় ধারাভাষ্যকারদের মধ্যে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রবি শাস্ত্রী, নাসের হুসেন, ইয়ান স্মিথ ও ইয়ান বিশপ। সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারদের বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করতে প্যানেলে রাখা হয়েছে অ্যারন ফিঞ্চ, দিনেশ কার্তিক, কুমার সাঙ্গাকারা, কার্লোস ব্র্যাথওয়েট, ইয়ন মরগান, ওয়াসিম আকরাম, সুনীল গাভাস্কার, ম্যাথু হেইডেন, ডেল স্টেইন, মাইকেল অ্যাথারটনসহ আরও অনেক নামকরা ব্যক্তিত্বকে। নারী ক্রিকেট বিশ্লেষণে থাকছেন কেটি মার্টিন, যা ধারাভাষ্যে বৈচিত্র্য এনেছে।
ভারত ও শ্রীলঙ্কার স্থানীয় সম্প্রচার দলের অংশ হিসেবেও রয়েছে শক্তিশালী একটি তালিকা। সেখানে হার্শা ভোগলে, ড্যানি মরিসন, অ্যালান উইলকিন্স, ইয়ান ওয়ার্ড, নিক নাইটের মতো অভিজ্ঞদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন আতহার আলী খান। দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাভাষ্যের অভিজ্ঞতা থাকায় আতহার আলীর উপস্থিতি সম্প্রচারে ভারসাম্য ও উপমহাদেশীয় দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই বিশ্বকাপে আরও একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো প্রথমবারের মতো আইসিসি টিভির ধারাভাষ্যে অংশ নেওয়া কয়েকজন সাবেক তারকা ক্রিকেটার। ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস এবং ২০২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপজয়ী অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা ধারাভাষ্যে নতুন অভিজ্ঞতা যোগ করবেন।
নিচের ছকে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—
| ক্ষেত্র | প্রতিনিধি | ভূমিকা |
|---|---|---|
| আম্পায়ারিং | শরফুদ্দৌলা ইবনে সৈকত | মাঠ আম্পায়ার |
| আম্পায়ারিং | গাজী সোহেল | মাঠ আম্পায়ার |
| ধারাভাষ্য | আতহার আলী খান | আইসিসি ধারাভাষ্যকার |
সব মিলিয়ে, মাঠে বাংলাদেশ দল না থাকলেও বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোয় দেশের উপস্থিতি বজায় থাকছে। ধারাভাষ্য ও আম্পায়ারিংয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের পেশাদার সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও একবার তুলে ধরল এই বিশ্বকাপ।