খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে মাঘ ১৪৩২ | ২৭ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান অংশ নেবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা এখনো কাটেনি। এই সংকট নিরসনে আজ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। বৈঠক শেষে নাকভি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে আগামী শুক্র অথবা সোমবারের মধ্যে।
এই সংকটের মূলে রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও আইসিসির মধ্যকার দ্বন্দ্ব। ভারতে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ দল সেখানে খেলতে অনীহা প্রকাশ করে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে আইসিসি সেই অনুরোধ নাকচ করে দিয়ে গত শনিবার এক নাটকীয় সিদ্ধান্তে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেয় এবং তাদের স্থলে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। আইসিসির এই একপাক্ষিক সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানায় পাকিস্তান। পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি আগে থেকেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশকে অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হলে পাকিস্তানও টুর্নামেন্ট বর্জনের পথ বেছে নিতে পারে।
বিশ্বকাপ সংকট ও পাকিস্তানের অবস্থানের মূলবিন্দুসমূহ:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য ও প্রেক্ষাপট |
| মূল সংকট | বিসিবি-র নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষিতে আইসিসি-র অনড় অবস্থান। |
| আইসিসি-র পদক্ষেপ | বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্তিকরণ। |
| পিসিবি-র দাবি | চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারতের জন্য ‘হাইব্রিড মডেল’ হলে বাংলাদেশের জন্য কেন নয়? |
| আর্থিক ঝুঁকি | টুর্নামেন্ট বর্জন করলে পিসিবি বড় অঙ্কের অংশগ্রহণ ফি হারাবে। |
| ভারতের ক্ষতি | পাকিস্তান না খেললে সম্প্রচার ও টিকিট বাবদ ভারতের বিশাল লোকসান। |
| চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিন | আগামী শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) অথবা সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি)। |
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আজকের বৈঠকে মহসিন নাকভি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফকে আইসিসির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এবং এতে পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় স্বার্থ কীভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে, তা সবিস্তারে অবহিত করেন। বৈঠক শেষে নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে নাকভি লিখেন, “প্রধানমন্ত্রীর সাথে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন সমস্ত বিকল্প পথ খোলা রেখে বিষয়টি সমাধান করা হয়।”
সূত্রমতে, নাকভি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন যে ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারত পাকিস্তানে আসতে অস্বীকার করায় আইসিসি তাদের জন্য বিকল্প ভেন্যু বা ‘হাইব্রিড মডেল’-এর ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আইসিসি কেন বৈষম্যমূলক আচরণ করে সরাসরি টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পিসিবি।
পিসিবি প্রধান প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, বিশ্বকাপ বর্জন করলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বড় ধরণের আর্থিক জরিমানার সম্মুখীন হতে পারে। তবে এর পাল্টাপাল্টি যুক্তি হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, পাকিস্তান যদি বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কট করে, তবে আইসিসি এবং আয়োজক দেশ ভারত বড় ধরণের বাণিজ্যিক ক্ষতির মুখে পড়বে। উল্লেখ্য, পাকিস্তান কেবল টুর্নামেন্ট বর্জন নয়, বরং বিকল্প হিসেবে শুধু ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে পাকিস্তান ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে। তাদের গ্রুপ সঙ্গী হিসেবে রয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত, নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্র। ক্রিকেট বিশ্বের নজর এখন আগামী সোমবারের দিকে, কারণ সেদিনই স্পষ্ট হবে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ আদৌ মাঠে গড়াবে কি না।