খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফা সমাপ্তি (ছদ্মনাম) ২০১৫-১৬ সেশনে ভর্তি হয়ে এই বিভাগ বেছে নেন। শুরু থেকেই তিনি নাটকে পারদর্শী ছিলেন এবং বিভাগের প্রযোজনায় অভিনয়ের মাধ্যমে শিক্ষক, সহপাঠী ও দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করেন। গ্র্যাজুয়েশন শেষ হওয়ার পরই শিল্পকলা একাডেমিতে প্রথিতযশা শিল্পীদের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে কাজের সুযোগ পান। তবে হঠাৎ নাটক ছেড়ে তিনি সরকারি চাকরির প্রস্তুতি শুরু করেন। নাট্যকলা বিভাগের অধিকাংশ শিক্ষার্থীও পেশাগত জীবনে নাট্যচর্চা বেছে নেন না। শিক্ষার্থীরা মূলত বিসিএসসহ অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি চাকরির দিকে মনোযোগ দেন।
বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী তরিকুল সরদার বলেন, পারিবারিক প্রত্যাশা, আর্থিক সমস্যা ও নাট্যচর্চার পেশাগত সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক জ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্কহীন পেশায় যুক্ত হন। তিনি জানান, দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করার পরও শিক্ষার্থীরা পরিবারের জন্য রুটি-রুজির তাগিদে অন্যান্য পেশায় যেতে বাধ্য হন। থিয়েটারকে পেশা হিসেবে বিবেচনা করা কম হলেও পার্শ্ববর্তী দেশ ও ইউরোপে এর চাহিদা রয়েছে।
নাট্যকলা বিভাগ দেশে বিভিন্ন কলার সংমিশ্রণ হিসেবে পরিচিত। প্রথম নাট্যশিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৬৯ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহায়ক কোর্স হিসেবে। পরে চারুকলা বিভাগের অধীনে নাট্যকলা অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৮৬-৮৭ শিক্ষাবর্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে দেশের ছয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৮৫০ শিক্ষার্থী নাট্যকলা বিভাগে অধ্যয়নরত, যাদের অধিকাংশই সরকারি-বেসরকারি চাকরি লক্ষ্য করে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ফাহমিদা আখতার বলেন, শিক্ষার্থীরা এখানে প্রাপ্ত শিক্ষা দিয়ে বিভিন্ন চাকরিতে যোগ দিতে পারেন। থিয়েটার পেশা হিসেবে বাংলাদেশের মধ্যে সীমিত, তবে মিডিয়া, ডেভেলপমেন্ট, ব্যাংকিং ও শিক্ষাক্ষেত্রে সম্ভাবনা রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদে নাট্যকলা বিষয় ১৯৮৯ সালে সাবসিডিয়ারি কোর্স হিসেবে চালু হয়। ১৯৯৭-৯৮ শিক্ষাবর্ষে চার বছর মেয়াদি বিএ অনার্স কোর্স শুরু হয়। ২০০৯ সালে বিভাগ দুটি—সংগীত ও থিয়েটার—হিসেবে বিভক্ত হয়। বর্তমানে সংগীত বিভাগে প্রতি বছর ৬০ শিক্ষার্থীর ভর্তির সুযোগ রয়েছে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩০০ হলেও বাস্তবে কম। শিক্ষার্থীর বেশিরভাগই সরকারি-বেসরকারি চাকরির দিকে মনোযোগ দেন।
সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী আহমাদ আতাউল্লাহ সালমান বলেন, ২০১৭ সাল থেকে সংগীতের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হওয়ায় তিনি এটি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তবে অনেক শিক্ষার্থী বিভাগে ভর্তি হলেও সংগীতকে পেশা হিসেবে নেন না।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সংগীত ও নাট্যতত্ত্ব’ বিভাগ ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ২০১৪ সালে পৃথক হয়ে ‘নাট্যকলা’ ও ‘সংগীত’ নামে স্বতন্ত্র কার্যক্রম শুরু করে। চট্টগ্রাম, জগন্নাথ ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়েও সংগীত বিভাগ স্বতন্ত্রভাবে চালু রয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক নাদিরা ইসলাম জানান, সংগীত বিভাগে মাত্র কিছু ব্যাচ গ্র্যাজুয়েট হয়েছে, তবে ভবিষ্যতে আরও শিক্ষার্থী সংগীতকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরাও অধিকাংশই বিসিএস বা অন্যান্য চাকরিতে যুক্ত হন। চেয়ারপারসন সহকারী অধ্যাপক তামান্না রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা অনুশীলন করছে, নাচের স্কুল পরিচালনা করছে, তবে দেশে এ ধরনের কাজের সুযোগ সীমিত। বিশ্ববিদ্যালয়ে তাত্ত্বিক জ্ঞান ও গবেষণার জন্য নৃত্যকলা বিভাগের গুরুত্ব রয়েছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন