খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে পৌষ ১৪৩২ | ৫ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আরএকে সিরামিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামানের হলফনামার তথ্যে উঠে এসেছে বিপুল পরিমাণ দেশি ও বিদেশি সম্পদের পাহাড়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে জমা দেওয়া গত তিনটি নির্বাচনের হলফনামা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত সাত বছরে তাঁর নগদ অর্থ প্রায় ২৭ গুণের বেশি বাড়লেও রহস্যজনকভাবে বার্ষিক আয় কমেছে কয়েক গুণ। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা, পাম জুমেইরাহ ও মারসাতে তাঁর মালিকানাধীন তিনটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের তথ্য এবারই প্রথম সামনে এসেছে, যা এর আগের কোনো হলফনামায় উল্লেখ ছিল না।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সাথে সাথে একরামুজ্জামানের আর্থিক অবস্থারও ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। সাবেক এই বিএনপি নেতা ও খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা বর্তমানে আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত হলেও ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য তিনি বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন, যা ২০১৮ সালের তুলনায় প্রায় ২২ গুণ বেশি। ঋণের পাল্লা যেমন ভারী হয়েছে, তেমনি বেড়েছে তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণও।
একরামুজ্জামানের বার্ষিক আয় বর্তমানে ৪ কোটি ৪৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা হলেও ২০১৮ সালে এটি ছিল ১৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকার বেশি। বর্তমানে তাঁর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৪২১ কোটি ৯২ লাখ ১২ হাজার টাকা। এর মধ্যে বড় একটি অংশ রয়েছে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ হিসেবে। তাঁর নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১ কোটি ৬৯ লাখ টাকায়, যা সাত বছর আগে ছিল মাত্র ৭৯ লাখ টাকা। এছাড়া তিনি নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে শত শত বিঘা কৃষি ও অকৃষি জমি এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে কয়েক কোটি টাকার ভবন ও বাড়ির মালিকানা প্রদর্শন করেছেন।
সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামানের গত তিনটি নির্বাচনের আর্থিক তথ্যের একটি তুলনামূলক চিত্র নিচে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | ২০১৮ সালের তথ্য (টাকা) | ২০২৪ সালের তথ্য (টাকা) | বর্তমান হলফনামার তথ্য (টাকা) |
|---|---|---|---|
| বার্ষিক মোট আয় | ১৬ কোটি ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার | ৫৩ কোটি ৯৭ লাখ | ৪ কোটি ৪৬ লাখ ৩৩ হাজার |
| নগদ অর্থের পরিমাণ | ৭৯ লাখ | ২৩ কোটি ৩৭ লাখ | ২১ কোটি ৬৯ লাখ ২৮ হাজার |
| মোট অস্থাবর সম্পদ | ৩৬৫ কোটি ৬৮ লাখ ৬৮ হাজার | ৪১৮ কোটি ৩২ লাখ | ৪২১ কোটি ৯২ লাখ ১২ হাজার |
| মোট স্থাবর সম্পদ | ৭২ কোটি ৩০ লাখ ৬৮ হাজার | ১০৭ কোটি ৩৬ লাখ ৪২ হাজার | ৮২ কোটি ৯৯ লাখ ৫ হাজার |
| মোট ঋণের পরিমাণ | ১৩৩ কোটি ৭০ লাখ ৬ হাজার | ২,৩০১ কোটি | ২,৯২১ কোটি |
২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর বিবরণী অনুযায়ী, একরামুজ্জামান ৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা আয়কর দিয়েছেন এবং তাঁর মোট প্রদর্শিত সম্পদের মূল্য ২৬৫ কোটি টাকা। তাঁর স্ত্রী নাঈমা জাহান আক্তারের নামেও প্রায় ৩ কোটি টাকার অস্থাবর ও ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। এছাড়া তাঁর দুই সন্তান সাইলিন জাহান ও কামার উজ জামানের নামেও কয়েক কোটি টাকার সম্পদ এবং আয়কর প্রদানের তথ্য হলফনামায় উঠে এসেছে। বর্তমানে তাঁর দায় বা ঋণের পরিমাণ ১২টি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ৩৫টি ব্যাংক ও ৭টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া হয়েছে, যা তাঁর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের বিশালতা ও ঋণের বোঝা উভয়কেই স্পষ্ট করে।