চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার ভাড়া বাসায় ফেরার পথে কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৪) পেশাদার ছিনতাইচক্রের নির্মম সহিংসতার শিকার হন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং তদন্তে বেরিয়ে আসছে একের পর এক ভয়াবহ তথ্য।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রাম থেকে একটি দূরপাল্লার বাসে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তিনি পদুয়ার বাজার বাসস্ট্যান্ডের কাছাকাছি নেমে যান এবং সেখান থেকে নিজের গন্তব্যে যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। সেই অটোরিকশাতেই আগে থেকেই অবস্থান করছিল সংঘবদ্ধ চারজন ছিনতাইকারী। চালকসহ সামনের সিটে দুজন এবং পেছনের সিটে আরও দুজন ছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ছিনতাইকারীরা স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়ক ও সংযোগ সড়কে যাত্রীবেশে ছিনতাই করে আসছিল। তারা কৌশলে যাত্রীদের নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে লুটপাট করত। বুলেট বৈরাগীও একই কৌশলের শিকার হন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার সময়রেখা
| সময়/পর্যায় |
ঘটনা |
| রাতের সময় |
চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা |
| পদুয়ার বাজার |
বাস থেকে নেমে অটোরিকশায় ওঠা |
| কিছুক্ষণ পর |
ছিনতাইচক্র যাত্রীবেশে উপস্থিতি নিশ্চিত |
| চলন্ত অবস্থায় |
বুলেটের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও লুটপাট |
| পরবর্তীতে |
চলন্ত যান থেকে ফেলে দেওয়া |
| সকাল ৭:৪৫ মিনিট |
মহাসড়কের পাশে মরদেহ উদ্ধার |
তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে সরাসরি পাঁচজন জড়িত ছিল। তাদের মধ্যে চারজন সরাসরি ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়, এবং আরেকজনের কাছ থেকে নিহতের ব্যাগ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এই পাঁচজনই এর আগে রেলপথে ডাকাতি সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলার আসামি ছিল।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী না থাকলেও তদন্তে জানা গেছে, ছিনতাইকারীরা বুলেট বৈরাগীর কাছ থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার সময় তিনি বাধা দিলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে তাকে চলন্ত অটোরিকশা থেকে মহাসড়কে ফেলে দেওয়া হয়। মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরবর্তীতে সকালে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার একটি হোটেলের পাশে স্থানীয়রা তার রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে পাঁচজনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো ঘটনাটি তাদের মানসিকভাবে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, নিহত বুলেট বৈরাগীর কুমিল্লাতেই কর্মস্থল ছিল এবং সেখানে তার একটি নতুন সংসার গড়ে উঠেছিল। তার সদ্য জন্ম নেওয়া সন্তানের প্রথম জন্মদিন ঘিরে পরিবারে আনন্দের প্রস্তুতি চলছিল, যা এখন শোকে পরিণত হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে এবং মহাসড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থায় যাত্রী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি উঠেছে।