খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
জয়পুরহাটের একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাশেদুল ইসলাম জানান, সর্বশেষ শুক্রবার রাতে আবাসিক শিক্ষার্থীদের ২২ জনকে লাঠিপেটা করার ঘটনা জানাজানি হয়।
ঘটনাস্থল হলো জেলা শহরের প্রফেসরপাড়া এলাকায় অবস্থিত নর্থ বেঙ্গল মডেল স্কুল অ্যান্ড ক্যাডেট একাডেমি, যেখানে দশম শ্রেণি পর্যন্ত আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। পাশ্ববর্তী কয়েকটি জেলা থেকেও শিক্ষার্থীরা এখানে পড়তে আসে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষকেরা— আশিকুর রহমান, এমদাদ হোসেন, আবুল বাশার ও ওমর ফারুক ওরফে পিকে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের অমানবিকভাবে মারধর করে আসছিলেন। গত শুক্রবার রাতের ঘটনা গান গাওয়া ও টেলিভিশন দেখার সময়ের তুচ্ছ কারণকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়। এক শিক্ষার্থী পালিয়ে বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকদের জানালে বিষয়টি প্রকাশ পায়।
অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে এসে পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলামকে অভিযোগ জানান। পরে অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও তাদের উপর চলা দীর্ঘদিনের অমানবিক নির্যাতনের কথা জানান। একাধিক অভিভাবক রোববার বিকেলে এসে নিজ সন্তানদের অবস্থার বর্ণনা দেন।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেজাউন জান্নাত রাব্বি জানান, “সকালে শিক্ষক আসতে দেরি করায় আমি গান গাইছিলাম। হঠাৎ এমদাদ স্যার এসে আমাকে বেদম মারধর করেন।”
অন্য শিক্ষার্থীরা জানান, ক্লাসে ঢুকে ‘হু আর ইউ’ বলে তাদের মারধর করা হয়েছে বা বন্ধুর সঙ্গে কথাকাটাকাটির কারণে পেটানো হয়েছে। একজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, “আমি বেতন কিছুটা কম দেই। এজন্য স্যার আমাকে বের করার হুমকি দিয়ে মারধর করেন।”
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, রবিউল ইসলামের কাছে অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অভিভাবকরা দাবি করেছেন, শাসন করা যেতেই পারে কিন্তু ধারাবাহিক ও হিংস্র নির্যাতন মেনে নেওয়া যায় না। তারা শিক্ষার্থী নির্যাতনের সঠিক তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ ওঠার পর শিক্ষকরা পালিয়ে গেলেও বিক্ষুব্ধ অভিভাবকদের কারণে পুলিশ গিয়ে পরিচালক ও প্রধান শিক্ষককে থানায় নিয়ে যায়। পরে মুচলেকা নিয়ে তিনি বাসায় ফিরে যান।
পরিচালক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।”
ইউএনও রাশেদুল ইসলাম জানান, “আঘাতকারীরা ঘটনাস্থলে না থাকায় মোবাইল কোর্ট করা যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠান প্রধান জড়িত শিক্ষকদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেবেন মর্মে লিখিত অঙ্গীকার দিয়েছেন। প্রয়োজনে কমিটির সুপারিশে নিয়মিত মামলা করা হবে।”
খবরওয়ালা/এন