খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 2শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ১৫ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আধুনিক ক্রিকেটের প্রেক্ষাপটে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি অধিনায়ক ও বর্তমান এসএ২০ (SA20) কমিশনার গ্রায়েম স্মিথ। সম্প্রতি অলিম্পিক ডটকমের সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) কেন্দ্রিক ক্রিকেট পিরামিড এবং ফুটবলের আদলে ক্রিকেটে ‘ক্লাব বিশ্বকাপ’ আয়োজনের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন।
২০০৮ সালে যাত্রা শুরু করা আইপিএল বিশ্ব ক্রিকেটের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত মানচিত্র আমূল বদলে দিয়েছে। স্মিথের মতে, আইপিএল শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং এটি একটি সফল ব্যবসায়িক ও ক্রীড়া মডেল যা বিশ্বজুড়ে দর্শকদের সম্পৃক্ততা এবং খেলার মানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার এই সাবেক ওপেনারের মতে, বর্তমানে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের লিগগুলো—যেমন অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ, ইংল্যান্ডের দ্য হান্ড্রেড বা দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০—সবই কোনো না কোনোভাবে আইপিএলের নিলাম পদ্ধতি ও পরিকাঠামো দ্বারা অনুপ্রাণিত।
স্মিথ ভবিষ্যৎবাণী করেন যে, বিশ্ব ক্রিকেটে অদূর ভবিষ্যতে চার থেকে পাঁচটি শীর্ষস্থানীয় লিগ আধিপত্য বিস্তার করবে। এই কাঠামোর শীর্ষে থাকবে আইপিএল এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সূচিতে এই লিগগুলোর জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রাখা অপরিহার্য হয়ে পড়বে।
ফুটবলে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বা ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের মতো আসরগুলো অত্যন্ত জনপ্রিয়। গ্রায়েম স্মিথ মনে করেন, ক্রিকেটেও এখন এমন একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের ভিত্তি তৈরি হয়ে গেছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের টি-টোয়েন্টি লিগের চ্যাম্পিয়ন দলগুলোকে নিয়ে একটি ‘ক্লাব বিশ্বকাপ’ আয়োজনের সম্ভাবনা এখন আর অলীক কল্পনা নয়।
স্মিথের মতে, যেহেতু বর্তমানে অধিকাংশ ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো ব্যক্তিগত মালিকানাধীন এবং অনেক মালিকের একাধিক দেশের লিগে দল রয়েছে, তাই এই ইকোসিস্টেমটি ক্লাব বিশ্বকাপের জন্য আদর্শ। এটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বৈশ্বিক আবেদন বৃদ্ধিতে এবং দর্শকদের নতুন রোমাঞ্চ দিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
১৯০০ সালের প্যারিস অলিম্পিকের পর দীর্ঘ ১২৮ বছরের বিরতি কাটিয়ে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ফিরছে ক্রিকেট। বিষয়টিকে ক্রিকেটের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন স্মিথ। তার মতে, অলিম্পিক স্বর্ণপদকের আবেদন একজন অ্যাথলেটের কাছে কতটা আবেগপূর্ণ হতে পারে, তা নোভাক জোকোভিচের মতো তারকাদের দেখলেই বোঝা যায়। ২০২৮ সালের ১২ থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেয়ারপ্লেক্স ভেন্যুতে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
নিচে ক্রিকেটের বিবর্তন ও আগামী বড় আসরগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| কেন্দ্রীয় প্রভাব | ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) |
| প্রস্তাবিত টুর্নামেন্ট | ক্রিকেটে ক্লাব বিশ্বকাপ (বিভিন্ন লিগের চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে) |
| এসএ২০-তে স্মিথের ভূমিকা | কমিশনার (দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ) |
| অলিম্পিকে ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তন | ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক (১২-২৯ জুলাই) |
| অলিম্পিক ফরম্যাট ও দল | টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট (ছেলে ও মেয়েদের ৬টি করে দল) |
| অলিম্পিক ভেন্যু | ফেয়ারপ্লেক্স, লস অ্যাঞ্জেলেস |
স্মিথ বিশ্বাস করেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট এবং অলিম্পিকের অন্তর্ভুক্তি একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। আধুনিক ক্রিকেটাররা এখন শুধু বিশ্বকাপ বা আইপিএল জয়ের স্বপ্নই দেখবে না, বরং অলিম্পিক পদক জয়ের হাতছানি তাদের ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করবে। তবে ক্লাব বিশ্বকাপের মতো বড় উদ্যোগ বাস্তবে রূপ দেওয়ার আগে সূচি নির্ধারণ ও পরিকাঠামোগত অনেক চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। ৪৫ বছর বয়সী এই সাবেক অধিনায়ক বর্তমানে ক্রিকেটীয় পিরামিডকে এমনভাবে সাজানোর ওপর জোর দিচ্ছেন, যেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলো সমন্বয় করে চলতে পারে।