খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সরাসরি সামরিক সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে এক প্রলয়ংকরী ‘সুনামি’র সৃষ্টি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের পকেটে এবং ডাইনিং টেবিলে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১৫০ থেকে ১৮০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় দেশে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ এবং পরিবহন খরচে চরম অস্থিরতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক ঝুঁকি:
জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ২০-৩০% বৃদ্ধির উপক্রম হয়েছে। হরমোজ প্রণালীতে প্রতিবন্ধকতার কারণে শিপিং খরচ ৩০০% বেড়ে যাওয়ায় দেশের তৈরি পোশাক খাত ও রপ্তানি বাণিজ্য বড় ধরনের হুমকির মুখে। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রায় ৬০ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিকের নিরাপত্তা ও রেমিট্যান্স প্রবাহ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও শেয়ার বাজারে ইতোমধ্যে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সর্বোচ্চ সতর্কতার আহ্বান:
বর্তমান এই ‘ট্রিপল ক্রাইসিস’ বা তিনমুখী সংকট (ডলার সংকট, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি অভাব) মোকাবিলায় দেশবাসীকে সর্বোচ্চ মিতব্যয়ী ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে:
* জ্বালানি সাশ্রয়: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী হতে হবে।
* অপ্রয়োজনীয় ব্যয় সংকোচন: নিত্যপণ্য মজুত করার আতঙ্ক পরিহার করে অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা ও খরচ কমিয়ে আপদকালীন সঞ্চয় গড়ে তুলতে হবে।
* গুজব রোধ: যুদ্ধ বা খাদ্য সংকট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো যেকোনো গুজবে কান না দিয়ে সরকারি বার্তার ওপর নজর রাখতে হবে।
* প্রবাসীদের যোগাযোগ: মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত স্বজনদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং জরুরি প্রয়োজনে নিকটস্থ দূতাবাসের সহায়তা নিতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের প্রতি আবেদন:
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আগেই সরকারকে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ, টিসিবির মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের নিরাপত্তায় দ্রুত কূটনৈতিক ও উদ্ধারকারী পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে হবে। আগামী কয়েক সপ্তাহ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল; তাই জাতীয় ঐক্য ও ধৈর্যের সাথে এই সংকট মোকাবিলাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।