খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: 19শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ২ই জুন ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের হাবিব কমপ্লেক্সে অবস্থিত আইএফআইসি ব্যাংকের উপশাখায় ছয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। সোমবার (২ জুন) সকালে ফুটেজটি সংগ্রহ করা হয় এবং তদন্তে এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, রবিবার (০১ মে) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুপুর একটার কিছু আগে কয়েকজন গ্রাহক ব্যাংকে প্রবেশ করে লেনদেন সেরে বেরিয়ে যান। এরপর ব্যাংকটি একেবারে ফাঁকা হয়ে যায়। ঠিক সেই সময় ব্যাংকের হিসাব বিভাগের কর্মী হোসনা রহমান হঠাৎ হেলে পড়ে যান এবং বমি করতে থাকেন। এরপর একে একে আরও পাঁচজন কর্মী হেলে পড়েন, যাঁদের মধ্যে দুজন নারীও ছিলেন। কেউ কেউ বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করলেও শাখা ব্যবস্থাপক সৌমিক জামান খানসহ দুজন চেয়ার ছেড়ে উঠতে পারেননি। তাঁদেরও বমি করতে দেখা যায়।
ফুটেজে আরও দেখা যায়, নিরাপত্তাকর্মী কামাল হোসেন তুলনামূলকভাবে সুস্থ ছিলেন। ধীরে ধীরে তিনি ক্যাশ কাউন্টারের দিকে এগিয়ে যান এবং টেলিফোন ধরার চেষ্টা করেন। কিন্তু সফল হননি। টেলিফোন ধরতে গিয়ে কাচ ভেঙে ফেলেন। এ অবস্থায় একজন গ্রাহক ব্যাংকে প্রবেশ করলে কামাল হোসেন তাঁর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। ওই গ্রাহক দ্রুত নিচে নেমে যান। কিছুক্ষণ পর ভবনের আরেক নিরাপত্তাকর্মী জুয়েল মিয়া এসে অন্যদের সহযোগিতায় অসুস্থ ব্যক্তিদের বাইরে বের করে আনেন।
ঘটনার পর থেকে এই সিসিটিভি ফুটেজকে পুলিশ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করছে। ভৈরব-কুলিয়ারচর সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব এবং কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন ফুটেজ বিশ্লেষণের কথা নিশ্চিত করেছেন। তাঁদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানা গেছে, ঘটনাটি কোনো ধরনের নাশকতা বা ডাকাতি নয়। ব্যাংকের টাকা-পয়সা, ভল্ট ও ক্যাশবাক্স সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে।
তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে ব্যাংকের জেনারেটর। নিয়ম অনুযায়ী এটি বাইরে থাকার কথা থাকলেও সেটি রাখা ছিল একটি বন্ধ কক্ষে। ঘটনার দিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটরটি চার ঘণ্টা ধরে চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এখান থেকেই বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়ে থাকতে পারে।
ওসি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। সবার সঙ্গে কথা হয়েছে। সিআইডির ক্রাইম টিম ঘটনাস্থল থেকে খাবার, পানি, চা ও বমির নমুনা সংগ্রহ করেছে। পরীক্ষার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে আসল কারণ।’
ঘটনার পরপরই ব্যাংকের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। বাজিতপুর মূল শাখা থেকে কর্মকর্তারা এসে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেন। তবে আজ সোমবার থেকে বিকল্প কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে ব্যাংকের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
তদন্ত নিয়ে এএসপি নাজমুস সাকিব বলেন, ‘আমরা তদন্ত করছি। খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ছিল কি না, তা সিআইডি খতিয়ে দেখছে। গ্যাস থেকে বিষক্রিয়া হয়েছে কি না কিংবা নিঃসৃত গ্যাসের ধরন কী, তা জানার জন্য ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে। আশা করছি, দ্রুত প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’
কুলিয়ারচর থানা সড়কের হাবিব কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় আইএফআইসি ব্যাংকের উপশাখাটি অবস্থিত। এটি তিন বছর ধরে বাজিতপুর শাখার অধীন পরিচালিত হচ্ছে।