খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে আষাঢ় ১৪৩২ | ১৪ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ব্রিটেনে বাংলাদেশের শাকসবজি চাষের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের শাকসবজির চাহিদা পূরণের জন্য ইতালি থেকে আসা তিন যুবক ব্রিটেনে বাংলাদেশের বিভিন্ন শাকসবজি চাষ শুরু করেছেন।
কুমিল্লার হাবিবুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক এবং নওগাঁর ইমদাদ উল্লাহ মিলে ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনের অদূরে ইপিং এলাকায় ৩ হেক্টর জমির ওপর গ্রিন হাউজে চাষ করছেন বাংলাদেশের লাউ, লাল শাক, পুঁইশাক, ডাটা, কলমি শাক, বেগুন, ঢেঁড়স, শিমসহ নানা ধরনের শাকসবজি।
এই তিন তরুণ উদ্যোক্তা তাঁদের ফার্মের নাম দিয়েছেন “ফ্রেশ কৃষি”। তারা জানিয়েছে, ব্রিটেনের বৈরী আবহাওয়ার কারণে বাংলাদেশি শাকসবজি সাধারণত তিন মাস (সামার) উৎপাদিত হয়ে থাকে, তবে গ্রিন হাউজ ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা প্রায় ৭-৮ মাস শাকসবজি উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন।
ফ্রেশ কৃষির বিপণন বিভাগের প্রধান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আমরা প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার কেজি ফসল উত্তোলন করে পূর্ব লন্ডনে বাংলাদেশি অধ্যুষিত হোয়াইট চ্যাপেল ও গ্রিন স্ট্রিটে সাপ্লাই করি। আমাদের লক্ষ্য ২০২৪ সালে ৩ লাখ পাউন্ডের সমপরিমাণ শাকসবজি বিক্রি করা, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫ কোটি টাকার সমান।”
এছাড়া, উদ্যোক্তা হাবিবুর রহমান জানান, তাদের শুরুটা ছিল অত্যন্ত কঠিন। ২০০৩ সালে ইতালিতে গিয়ে কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তারা। ব্রেক্সিটের আগে সবাই ব্রিটেনে আসার পর তারা তিন বন্ধু মিলে একটি জায়গা খুঁজতে থাকেন, তবে প্রথম বছর তাদের প্রজেক্ট ব্যর্থ হয়। তবে দ্বিতীয় বছর তারা ৩ হেক্টরের গ্রিন হাউজে চাষ শুরু করেন এবং প্রথম বছরেই ১ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ডের শাকসবজি বিক্রি করতে সক্ষম হন।
আরেক উদ্যোক্তা ইমদাদ উল্লাহ বলেন, “ব্রিটেনে বাংলাদেশের শাকসবজি বলতে মূলত ইতালী থেকে আসা শাকসবজি পাওয়া যায়, যেগুলো পৌঁছাতে পৌঁছাতে বেশ নষ্ট হয়ে যায়। তাই আমরা নিজস্ব উৎপাদন করছি এবং প্রতিদিন ফ্রেশ সবজি বাজারে সাপ্লাই করছি। আমাদের ফার্মে শতভাগ বীজ বাংলাদেশ থেকে আনা হয় এবং জৈব সার ব্যবহার করা হয়।”
তারা জানান, ব্রিটেনে বাংলাদেশের শাকসবজির বাজার এখন প্রায় হাজার কোটি টাকার উপরে এবং তারা প্রথম উদ্যোগ নিয়ে সফল হয়েছেন। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্যও তারা সহায়তা প্রদান করতে প্রস্তুত।
খবরওয়ালা/আরডি