খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫
মাদারীপুরের কালকিনিতে বিয়ের সকল আয়োজন সম্পন্ন হওয়ার পরও বর আসেননি বিয়ে করতে, একই সময় পালিয়ে গেছেন কনে পক্ষও। ঘটনার কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দেয় উপজেলা প্রশাসন। এই খবর জানার পরই মূলত বর বিয়ে করতে আসেন নি। রোববার (২৯ জুন) কালকিনি উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
রোববার (২৯ জুন) দুপুরে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের পূর্ব আলীপুর গ্রামে ঘটে এই আলোচিত ঘটনা। লামিয়া আক্তার (১৪) একই গ্রামের রেজাউল আকনের মেয়ে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই স্কুলছাত্রীর সঙ্গে পাশের চর আলীপুর গ্রামের এক যুবকের বিয়ের ঠিক হয়। এমন খবরে কালকিনি থানা পুলিশের সহায়তায় সেখানে যান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহাবুবা ইসলাম। ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে লামিয়ার জন্মনিবন্ধন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বয়স ১৪ বছর নিশ্চিত হন বিচারক।
আরও জানা গেছে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে কনের পরিবারের লোকজন কনেসহ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ভয়ে বিয়ে বাড়িতে আর আসেনি বরপক্ষও। পরে নাবালিকা মেয়ের বিয়ের আয়োজন করায় মেয়ের ফুপা হালান সরদারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
কালকিনি উপজেলা ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহাবুবা ইসলাম বলেন, বাল্যবিবাহের আয়োজন করায় বর ও কনের পরিবার সমান অপরাধ করেছে। বরপক্ষকে না পাওয়ায় আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি৷ আর মেয়েটির পরিবারকে মুচলেকাসহ আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।
খবরওয়ালা/এমএজেড