টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের উজ্জ্বল বিজয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে আবারও প্রমাণ করল, দেশটির ক্রিকেটে ট্রফি জয়কে একটি অভ্যাসে পরিণত করতে পারে। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়ন হয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতেছে। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ভারত নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে এবারের টুর্নামেন্টের তৃতীয়বারের জন্য শিরোপা জিতল।
ভারতের দলকে নিয়ে প্রসংশা করতে গিয়ে পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার রশিদ লতিফ বলেছেন, “টসে হেরেও তারা ২৫৫ রান তুলছে। এখন কাউকেই তাদের ধারেকাছে দেখা যাচ্ছে না। এটি রাতারাতি হয়নি; গত দশ বছরের কঠোর পরিশ্রমের ফল। ভারত এখন বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠা এবং শিরোপা জয়কে অভ্যাসে পরিণত করেছে।”
ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড ফাইনাল সংক্ষিপ্ত তথ্য
| দল | স্কোর | হার/জয় | মূল পারফরম্যান্স |
|---|---|---|---|
| ভারত | 255/6 | জয় | সূর্যকুমার-স্যামসনদের শক্তিশালী ব্যাটিং, বোলিংয়ে পেসারদের আক্রমণ |
| নিউজিল্যান্ড | 159/9 | পরাজয় | ব্যাটিংয়ে নিরব ধারাবাহিকতা, কিন্তু পেস ও স্পিনে ব্যর্থ |
ভারতের জন্য এটি একটি মাইলফলক। প্রথম দল হিসেবে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ভারত সর্বমোট তিনবার সংক্ষিপ্ত পরিসরের বিশ্বকাপ জিতল। এর আগে ভারত 2007, 2016, এবং 2021 সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল।
অন্যদিকে, পাকিস্তান এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সুপার এইটে থেকেই বিদায় নিয়েছে। দেশের ব্যর্থ পারফরম্যান্স শুধু এইবার নয়; সাম্প্রতিক টুর্নামেন্টগুলোতেও পাকিস্তান ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে পারছে না। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পাকিস্তান শেষবারের জন্য জিতেছিল। ১৯৯২ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০০৯ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সাফল্য পেয়েও বর্তমানে দল নকআউটের আগেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাচ্ছে।
রশিদ লতিফ আরও বলেছেন, “ভারতের ডিএনএতেই আছে ট্রফি জয়; আমাদের ডিএনএ হলো নকআউটের আগেই বিদায় নেওয়া। ভারতের কাছে ফাইনাল খেলা এবং জেতা স্বাভাবিক বিষয়, আর আমাদের দল তা এখনো দূরের লক্ষ্য।”
পাকিস্তানের বাজে পারফরম্যান্সের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড খেলোয়াড়দের জরিমানা করেছে। এই প্রসঙ্গে লতিফ মন্তব্য করেছেন, “দুর্বল বোর্ডই এমন কিছু করে। খেলোয়াড়রা যখন চুক্তি স্বাক্ষর করে, সেখানে সবকিছু লেখা থাকে, যার মধ্যে জরিমানা এবং পুরস্কারের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকে।”
ভারতের ক্রমবর্ধমান শক্তি এবং পাকিস্তানের হীনপ্রতাপ পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুই দেশের দ্বৈরথকে আরও রঙিন করবে।
শিরোপার এই বিজয় শুধু একটি সংখ্যা নয়; এটি ভারতের ক্রিকেট সংস্কৃতিতে “জয়ের ডিএনএ”য়ের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে।