খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১৯ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) আসন্ন দুটি বড় বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভারত ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষাপটে আইসিসি ২০২৯ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এবং ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য বিকল্প ভেন্যু হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
বর্তমানে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ সরকার তাদের জাতীয় দলকে ভারতে পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ করলেও আইসিসি তা নাকচ করে দেয়, যার ফলে বাংলাদেশ এই আসর থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। এর পরপরই পাকিস্তান সরকার ভারতের বিপক্ষে কোনো ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দিলে টুর্নামেন্টটি বড় ধরনের আইনি ও বাণিজ্যিক সংকটে পড়ে।
যদিও আইসিসির উচ্চপর্যায়ের কূটনীতিক তৎপরতায় পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত কলম্বোয় ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামে, তবে এই ঘটনাপ্রবাহ আইসিসিকে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। আঞ্চলিক রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সূচি ও বাণিজ্যিক স্বত্ব বারবার ঝুঁকির মুখে পড়ায় সংস্থাটি এখন ভারতের বাইরে স্থিতিশীল কোনো ভেন্যু খুঁজছে।
আইসিসি সাধারণত কয়েক বছর আগেই টুর্নামেন্টের স্বত্ব প্রদান করে থাকে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে বা নিরাপত্তার অভাব দেখা দিলে তা পরিবর্তন করার এখতিয়ার সংস্থাটির রয়েছে।
| টুর্নামেন্টের নাম | নির্ধারিত আয়োজক দেশ | নির্ধারিত সাল | বর্তমান পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য বিকল্প |
| চ্যাম্পিয়নস ট্রফি | ভারত | ২০২৯ | ভারত থেকে সরিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় নেওয়ার পরিকল্পনা। |
| আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ | ভারত ও বাংলাদেশ | ২০৩১ | সহ-আয়োজক বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়। |
| টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ | অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড | ২০২৮ | এই টুর্নামেন্টের সফল আয়োজনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসবে। |
সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ক্রিকেটের বাণিজ্যিক শক্তির মূল কেন্দ্র ভারত হলেও দেশটিকে ঘিরে রাজনৈতিক জটিলতা টুর্নামেন্টের মসৃণ আয়োজনে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া একটি নিরপেক্ষ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকিহীন ভেন্যু হিসেবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। ২০২৮ সালে সেখানে এমনিতেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। আইসিসি মনে করছে, অস্ট্রেলিয়ার উন্নত স্টেডিয়াম অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক মানের লজিস্টিক সাপোর্ট যেকোনো বড় টুর্নামেন্ট স্বল্প সময়ের নোটিশে আয়োজন করতে সক্ষম।
২০৩১ সালের বিশ্বকাপে ভারতের সাথে বাংলাদেশও সহ-আয়োজক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ দলের ভারতে গিয়ে খেলতে না চাওয়ার অনড় অবস্থান আইসিসিকে ভাবিয়ে তুলেছে। যদি বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টের আয়োজক স্বত্ব হারায়, তবে সেটি দেশের ক্রিকেট ও অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা হবে। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকারের কঠোর মনোভাবের কারণে ভারত-পাকিস্তান হাই-ভোল্টেজ ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনের চাপ বাড়ছে।
সব মিলিয়ে আইসিসি ক্রিকেট প্রশাসনের মধ্যে একটি বিস্তৃত ‘প্ল্যান বি’ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও ভারতের পক্ষ থেকে আয়োজক স্বত্ব ধরে রাখতে জোরালো চেষ্টা চালানো হচ্ছে, তবে ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে এবং সম্প্রচার সত্ত্বের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইসিসি শেষ পর্যন্ত কঠিন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।