খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ভারতের ওড়িশা-ছত্তিশগড় সীমানায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে রাতভর বন্দুকযুদ্ধে এক শীর্ষ কমান্ডারসহ অন্তত ১০ জন মাওবাদী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে উড়িষ্যা ও ছত্তিশগড় রাজ্যের সীমান্তবর্তী জঙ্গলে ঘটে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা বিবেকানন্দ সিনহা।
তিনি বলেন, ‘নিহতদের মধ্যে আছেন মদেম বালকৃষ্ণ, যিনি উড়িষ্যায় মাওবাদী সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন এবং যিনি একাধিক নামে পরিচিত। বালকৃষ্ণকে খুঁজে দিতে এক লাখ ১৪ হাজার ডলারের পুরস্কার নির্ধারণ করা হয়েছিল।
ভারত সরকার দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নকশালপন্থী (মাওবাদী) বিদ্রোহ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। আগামী বছরের মার্চের মধ্যে মাওবাদী বিদ্রোহ সম্পূর্ণ দমন করার ঘোষণা দেওয়া কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সর্বশেষ এ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘বাকি নকশালিরাও সময় থাকতেই আত্মসমর্পণ করুক।’
মাওবাদী বা নকশালপন্থী আন্দোলনের সূচনা হয় ১৯৬৭ সালে, পশ্চিমবঙ্গের নকশালবাড়ি নামক একটি গ্রামে, যেখানে কৃষকরা জমিদারদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে বিদ্রোহ করেছিল। এরপর ছড়িয়ে পড়ে ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে।
গত ছয় দশকে এই বিদ্রোহে ১২ হাজারেরও বেশি বিদ্রোহী, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন।
বিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকের মাঝামাঝি সময়ে বিদ্রোহীরা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করত, তখন তাদের যোদ্ধার সংখ্যা ছিল আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ হাজার।
সরকারি তথ্যমতে, গত বছর থেকে শুরু হওয়া সেনা অভিযানে শুধু ‘লাল করিডর’ জুড়ে ৪০০-র বেশি বিদ্রোহী নিহত হয়েছে।
এ বছরের মে মাসে সংগঠনের প্রধান নাম্বালা কেশব রাও ওরফে বসভারাজুকে ২৬ জন গেরিলাসহ হত্যা করা হয়।
সংঘাতে সরকারি বাহিনীও বহুবার ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সড়কে পুঁতে রাখা বোমায় অন্তত ৯ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন।
খবরওয়ালা/এসআর