খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
Renters Rights Act কার্যকর হওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা (মে) ঘনিয়ে আসতেই যুক্তরাজ্যের আবাসন বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য আইনি জটিলতা, ভাড়া আদায়ে বিলম্ব এবং উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের আশঙ্কায় অনেক বাড়িওয়ালা এখন আগাম সুরক্ষা হিসেবে ভাড়া–সংক্রান্ত বীমা নিচ্ছেন। খাতসংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Goodlord দাবি করেছে, সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের প্ল্যাটফর্মে রেন্টাল ইন্স্যুরেন্স পণ্যের চাহিদা ৪১ শতাংশ বেড়েছে।
সম্প্রতি ২৩৪ জন বাড়িওয়ালা ও লেটিং এজেন্টের ওপর পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, উত্তরদাতাদের ৭৬ শতাংশ বলেছেন—নতুন আইন তাদের বীমা নেওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়েছে। ১১ শতাংশ জানিয়েছেন, তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। মাত্র ১ শতাংশ বলেছেন, আইনের কারণে বীমা নেওয়ার আগ্রহ কমেছে। বাকি অংশ সিদ্ধান্তহীন বা মন্তব্য করেননি।
| সূচক | শতাংশ |
|---|---|
| আইন কার্যকরের ফলে বীমা নেওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে | ৭৬% |
| অবস্থান অপরিবর্তিত | ১১% |
| বীমা নেওয়ার আগ্রহ কমেছে | ১% |
| সেপ্টেম্বর–ডিসেম্বরে বীমা চাহিদা বৃদ্ধি | ৪১% |
রেন্টাল প্রোটেকশন ইন্স্যুরেন্স সাধারণত ভাড়াটিয়া ভাড়া পরিশোধে ব্যর্থ হলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে ভাড়া আটকে রাখলে ক্ষতিপূরণ দেয়। পাশাপাশি আদালত–সংক্রান্ত ব্যয়, আইনজীবীর ফি, এমনকি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির মতো অতিরিক্ত খরচও আংশিক বা সম্পূর্ণ কভার করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন আইনে উচ্ছেদ–সংক্রান্ত বিধি ও ভাড়াটিয়ার সুরক্ষা জোরদার হলে বিরোধ নিষ্পত্তিতে সময় বাড়তে পারে; এতে নগদ প্রবাহে চাপ পড়ার ঝুঁকি থাকে—যা বীমা দিয়ে আংশিকভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব।
গুডলর্ডের এক মুখপাত্রের ভাষ্য, “আইনটি আবাসন বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনছে এবং বাজার সেই অনুযায়ী নিজেকে পুনর্গঠিত করছে। আদালতে মামলার জট, ভাড়াটিয়ার হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যাওয়া বা দরকষাকষিতে মূল্য কমানোর মতো আশঙ্কাগুলো হয়তো প্রত্যাশিত মাত্রায় নাও ঘটতে পারে; তবু অনিশ্চয়তার সময়ে বাড়িওয়ালা ও এজেন্টরা ঝুঁকি নিতে চান না।”
খাতবিশ্লেষকদের মতে, নীতিগত পরিবর্তনের প্রাক্কালে ঝুঁকি–ব্যবস্থাপনা ব্যয় বাড়া অস্বাভাবিক নয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্থিতি নির্ভর করবে আইনের বাস্তবায়ন পদ্ধতি, আদালত–ব্যবস্থার দক্ষতা এবং ভাড়া–চুক্তির স্বচ্ছতার ওপর। এদিকে, বাড়িওয়ালাদের একটি অংশ মনে করছেন—বীমা খরচ বাড়লেও তা সম্ভাব্য বকেয়া ও আইনি ব্যয়ের তুলনায় সাশ্রয়ী হতে পারে। ফলে মে মাসের সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রেন্টাল ইন্স্যুরেন্স খাতে চাহিদা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।